প্রাণঘাতী নোরোভাইরাসের কবলে প্রমোদতরী, কোয়ারেন্টাইনে ১৭০০ যাত্রী

আপডেট : ১৩ মে ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম

ফ্রান্সের বোর্দো বন্দরে নোঙর করা একটি প্রমোদতরীর ১ হাজার ৭০০ যাত্রী ও ক্রু অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। নোরোভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক যাত্রী মারা গেছেন-এমন খবরের পর ফরাসি কর্তৃপক্ষ জাহাজটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে।

যুক্তরাজ্যের অ্যাম্বাসাডর ক্রুজ লাইন ‘অ্যাম্বিশন’ নামের জাহাজটি মঙ্গলবার (১২ মে) পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বোর্দোতে পৌঁছায়। জাহাজটির ১ হাজার ২৩৩ জন যাত্রীর বেশিরভাগই ছিলেন ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডের নাগরিক।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাজে থাকা ৯০ বছর বয়সি এক যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৫০ জনের মধ্যে নোরোভাইরাসের উপসর্গ দেখা গেছে।

 
প্রমোদতরীটি ৬ মে শেটল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ থেকে যাত্রা শুরু করে। বোর্দো পৌঁছানোর আগে এটি উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট, ব্রিটেনের লিভারপুল এবং ফ্রান্সের ব্রেস্ট বন্দরে যাত্রাবিরতি করেছিল। বোর্দো থেকে জাহাজটির স্পেনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল।
 
প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে এবার আলোচনায় এসেছে নোরোভাইরাস। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন ক্রুজ জাহাজে ধারাবাহিক সংক্রমণের খবর প্রকাশের পর এই ভাইরাস নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
 
মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) বলছে, নোরোভাইরাসকে অনেক সময় ‘স্টমাক ফ্লু’ বলা হলেও এটি আসলে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস নয়। এটি অত্যন্ত সংক্রামক এক ধরনের ভাইরাস, যা মূলত পাকস্থলী ও অন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর ফলে বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, বমিভাব ও দুর্বলতা দেখা দেয়। সাধারণত দূষিত খাবার, পানি, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ কিংবা দূষিত পৃষ্ঠে স্পর্শের মাধ্যমে এটি ছড়িয়ে পড়ে।
 
বিশেষজ্ঞদের মতে, নোরোভাইরাস নতুন কোনো ভাইরাস নয়। বহু বছর ধরেই এটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক প্রাদুর্ভাব, দ্রুত সংক্রমণ এবং হাসপাতাল ও ক্রুজ জাহাজে ব্যাপক আক্রান্তের কারণে বিষয়টি নতুন করে বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে।

 
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নোরোভাইরাস নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা ও উদ্বেগের কথা বারবার তুলে ধরেছে। সংস্থাটি বলছে, নোরোভাইরাস বর্তমানে বিশ্বে তীব্র গ্যাস্ট্রোএন্টারাইটিস বা তীব্র ডায়রিয়া-বমিজনিত অসুস্থতার অন্যতম প্রধান কারণ।
 
প্রতি বছর বিশ্বে আনুমানিক ৬৮ কোটি ৫০ লাখ মানুষ নোরোভাইরাসে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়, যার বড় অংশই নিম্নআয়ের দেশগুলোতে।
 
তথ্যসূত্র: আরব নিউজ

AHA
আরও পড়ুন