ইসরায়েলি শাসক গোষ্ঠী একটি ভঙ্গুর ও অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় ইরান যেকোনো মুহূর্তে পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে বলে একজন ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা সতর্ক করেছেন।
বুধবার প্রেস টিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আজ সকালে স্বাক্ষরিত এমনিতেই নড়বড়ে যুদ্ধবিরতিকে এই শাসক গোষ্ঠী যেভাবে অস্থিতিশীল করে তুলছে, তা পুরো বিশ্ব বর্তমানে প্রত্যক্ষ করছে।‘
ওই কর্মকর্তার মতে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে এবং একই সাথে লেবাননের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালিয়ে ও ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই চুক্তির মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এই আগ্রাসী শাসক গোষ্ঠীকে তার জায়গায় বসানোর’ সময় এসে গেছে।
তিনি আরো সতর্ক করে বলেন, যদি যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে, তবে এর জন্য একমাত্র ইহুদিবাদী শাসক গোষ্ঠীকে দায়ী করা হবে এবং ইরান "আগ্রাসীকে শাস্তি দেবে" বলে অঙ্গীকার করেন।
ওই কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দেন যে, হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রিতভাবে পুনরায় খুলে দেওয়ার পর যে স্বস্তির সময় এসেছে, এই লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে তা দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।
বুধবারের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসক গোষ্ঠীর ৪০ দিনব্যাপী আগ্রাসী যুদ্ধের পর ইরান একটি ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ ঘোষণা করে এবং জানায় যে ওয়াশিংটন ইরানের ১০-দফা প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।
প্রস্তাবের একটি দফায় লেবাননসহ সকল রণাঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।
তবে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরেই ইসরায়েল লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ একাধিক স্থানে হামলা চালিয়ে শত শত বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করে।
প্রতিবেদন অনুসারে, ইসরায়েল ১০ মিনিটেরও কম সময়ে দেশজুড়ে বিভিন্ন এলাকা লক্ষ্য করে অন্তত ১০০টি বিমান হামলা চালায়। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শুধু বৈরুতেই অন্তত ৮৮ জন নিহত হয়েছেন।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী যুদ্ধের সমান্তরালে মার্চের শুরুতে শাসকগোষ্ঠী লেবাননের ওপর নতুন করে আগ্রাসন শুরু করার পর থেকে এটিই ছিল দেশটির ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ।#