২০২৪ সালের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পরাজয়ের পর আবারও মার্কিন রাজনীতির মূল মঞ্চে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) নিউইয়র্কে নাগরিক অধিকার সংগঠন ‘ন্যাশনাল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক’-এর বার্ষিক সম্মেলনে তিনি ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়াইয়ের আভাস দেন।
সম্মেলনে নাগরিক অধিকার নেতা আল শার্পটন সরাসরি প্রশ্ন করেন, 'আপনি কি ২০২৮ সালে আবারও নির্বাচনে লড়বেন'
জবাবে হ্যারিস বলেন, 'আমি এটি নিয়ে ভাবছি। ভবিষ্যতে কে, কোথায় এবং কীভাবে আমেরিকান জনগণের জন্য সেরা কাজটি করতে পারবে সেই প্রেক্ষাপটেই আমি বিষয়টি বিবেচনা করছি। আমি আপনাদের আপডেট জানাব।' তাঁর এই মন্তব্যের সময় উপস্থিত জনতা ‘রান এগেইন’ (আবারও লড়ুন) স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।
নিজের যোগ্যতার কথা তুলে ধরে হ্যারিস বলেন, 'আমি হোয়াইট হাউসে চার বছর দায়িত্ব পালন করেছি। ওভাল অফিসের মাত্র কয়েক কদম দূরত্বে আমার অফিস ছিল। আমি জানি এই কাজের গুরুত্ব কতটুকু এবং এর জন্য কী প্রয়োজন।' উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনে হ্যারিস ৭৫ কোটিরও বেশি ভোট পেয়েছিলেন, যা বারাক ওবামা বা বিল ক্লিনটনের চেয়েও বেশি। তবে ইলেক্টরাল কলেজ ভোটে ৩১২-২২৬ ব্যবধানে তিনি ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হন।
সম্মেলনে কমলা হ্যারিস বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন। বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধকে তিনি ট্রাম্পের ‘ইচ্ছাকৃত যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেন। হ্যারিস অভিযোগ করেন, ট্রাম্পের আগ্রাসী নীতির কারণে আমেরিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নির্ভরযোগ্যতা হারাচ্ছে এবং মিত্রদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।
হ্যারিস ছাড়াও ২০২৮ সালের ডেমোক্রেটিক মনোনয়নের দৌড়ে আরও বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা আলোচনায় আছেন। এই সম্মেলনে ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিটজকার, পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জোশ শাপিরো এবং সাবেক পরিবহন মন্ত্রী পিট বুটিজেজ উপস্থিত ছিলেন, যাদের সবাইকেই ভবিষ্যতের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা