যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ৩৯টি দেশের নাগরিকদের আশ্রয় (অ্যাসাইলাম), কাজের অনুমতি, গ্রিন কার্ড এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তি থেকে বেআইনিভাবে বঞ্চিত করেছে বলে রায় দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এর আগে গত মার্চে অভিবাসী সেবা সংস্থা ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর একটি জোট এ বিষয়ে মামলা দায়ের করে।
শুক্রবার রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের প্রভিডেন্সে প্রধান মার্কিন জেলা বিচারক জন ম্যাককনেল বলেন, মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ৩৯টি দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে একাধিক অবৈধ নীতি গ্রহণ করেছিল।
বিচারক বলেন, অভিবাসীরা কংগ্রেস কর্তৃক প্রণীত এবং ইউএসসিআইএস-এর নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়াগুলো মেনে চলেছিলেন। তা সত্ত্বেও তারা "দিনের পর দিন, মাসের পর মাস ধরে এমন সব সুবিধার আবেদনের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়েছেন, যা ইউএসসিআইএস নিষ্পত্তি করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল।"
সাবেক ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কর্তৃক নিযুক্ত এই বিচারক বলেন, প্রশাসন কোনো সংবিধিবদ্ধ বা নিয়ন্ত্রক কর্তৃত্ব ছাড়াই এবং "অভিবাসী-বিরোধী মনোভাব" থেকে এই নীতিগুলো গ্রহণ করেছিল, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলার মতো কোনো বিষয় হতে পারে না।
তিনি রায়ে লেখেন, "ইউএসসিআইএস-এর এই আবেদন আটকে রাখার সিদ্ধান্তের পেছনে এই ব্যক্তিদের কোনো ভুল ছিল না; বরং কেবল তাদের জন্মস্থানের কারণে তারা এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।"
এই রায়টিকে অভিবাসী সেবা সংস্থা এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর জোটের জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যারা গত মার্চ মাসে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীনে থাকা ইউএসসিআইএস-এর এই নীতিগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করেছিল।
বাদীপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী উদারপন্থী আইনি সংগঠন 'ডেমোক্রেসি ফরওয়ার্ড'-এর প্রধান স্কাই পেরিমান বলেন, "এই রায়টি একটি মৌলিক নীতিকে পুনর্ব্যক্ত করে: ফেডারেল সরকার বৈধ অভিবাসন পথ বন্ধ করতে পারে না বা মানুষ কোথা থেকে এসেছে তার ওপর ভিত্তি করে বৈষম্য করতে পারে না।"
এই বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে মোতায়েনরত ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে গুলি করার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর যে কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করেছিল, তারই অংশ হিসেবে ইউএসসিআইএস এই নীতিগুলো গ্রহণ করে। প্রসিকিউটরদের মতে, ওই হামলার পেছনে একজন আফগান অভিবাসী জড়িত ছিলেন।
রহমানুল্লাহ লাকানওয়াল নামের ওই ব্যক্তি অবশ্য নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
ওই ঘটনার পর, ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে মার্কিন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে তিনি "সব তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত" করবেন। এরপর তিনি তার প্রশাসনের অধীনে পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশের সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৯টিতে উন্নীত করেন।
পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে ছিল আফগানিস্তান, ইরান, হাইতি, সোমালিয়া, ভেনিজুয়েলা এবং সিরিয়া। প্রশাসন অবশ্য নিরাপত্তা ও যাচাই-বাছাইয়ের অজুহাতে এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিকতা তুলে ধরেছিল।
ইউএসসিআইএস-এর গৃহীত নীতিগুলোর কারণে এই ৩৯টি দেশের মানুষের অভিবাসন সুবিধার আবেদন প্রক্রিয়া আটকে ছিল। বিচারক ম্যাককনেল বলেন, এটি "কেবল জন্মস্থানের কারণে অসংখ্য মানুষের জীবনকে থমকে দিয়েছিল।"
তিনি আরও লেখেন, "তবে আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। আর এখানে স্পষ্ট যে, ইউএসসিআইএস 'আইনও মানেনি' কিংবা 'সঠিক উপায়ে কাজও করেনি'। প্রকৃতপক্ষে, সংস্থাটি কংগ্রেসের তৈরি করা অভিবাসন আইনের পাশাপাশি তাদের নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রশাসনিক আইনগুলোও লঙ্ঘন করেছে।" সূত্র : রয়টার্স
মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারি করছে ইসরায়েল
হিজবুল্লাহকে দোষী বানিয়ে ফায়দা লুটছে ইসরায়েল