অস্ত্র বাণিজ্যে সৌদি ‘ভেটো’, সুদান-পাকিস্তানের দেড় বিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্থগিত

সৌদি আরবের সরাসরি আপত্তিতে পাকিস্তানের দেড় বিলিয়ন (১৫০ কোটি) মার্কিন ডলারের একটি বিশাল অস্ত্র চুক্তি মাঝপথে আটকে গেছে। সুদানের সেনাবাহিনীর কাছে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও যুদ্ধবিমান সরবরাহের এই চুক্তিতে অর্থায়ন করার কথা ছিল রিয়াদের। তবে শেষ মুহূর্তে সৌদি আরব অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় পাকিস্তান এই চুক্তি স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে জানা গিয়েছিল, পাকিস্তান ও সুদানের মধ্যে এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং সৌদি আরব এতে মধ্যস্থতা করছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষের পর পাকিস্তানের তৈরি যুদ্ধবিমান ও অস্ত্রশস্ত্রের চাহিদা আন্তর্জাতিক বাজারে বৃদ্ধি পায়। সুদানের সংঘাতময় পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে দেশটির সেনাবাহিনী পাকিস্তানের এই সমরাস্ত্র নিতে আগ্রহী ছিল।

নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বেশ কিছু পশ্চিমা দেশ সৌদি আরবকে আফ্রিকার ‘প্রক্সি যুদ্ধে’ সরাসরি না জড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। এছাড়া সুদান ও লোহিত সাগর তীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিন্নমুখী কৌশলও এই সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌদি আরব সুদানের নিয়মিত বাহিনীকে সমর্থন দিলেও আমিরাতের বিরুদ্ধে আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ-কে লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

পাকিস্তান বর্তমানে চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং সৌদি আরব তাদের প্রধান ঋণদাতা ও অর্থায়নের উৎস। গত বছর দুই দেশের মধ্যে একটি গভীর প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে এক দেশের ওপর আক্রমণকে উভয়ের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের ইচ্ছা উপেক্ষা করে এই চুক্তি এগিয়ে নেওয়া ইসলামাবাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

কেবল সুদান নয়, লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সঙ্গে পাকিস্তানের প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের আরেকটি অস্ত্র সরবরাহ চুক্তিও এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সৌদি আরব বর্তমানে সুদান ও লিবিয়া নিয়ে তাদের আঞ্চলিক কৌশলে বড় ধরণের পরিবর্তন আনছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পাকিস্তানের সামরিক রপ্তানি খাতে।

এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত সৌদি সরকার কিংবা পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, রিয়াদের এই নীতি পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার সামরিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে।