১০০ বছর পর সৌদিতে জন্ম নিলো বিলুপ্তপ্রায় বুনো গাধা

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ০১:৫০ পিএম

সৌদি আরবের মাটিতে দীর্ঘ ১০০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো জন্ম নিয়েছে বিশ্বের অন্যতম বিরল বুনো গাধা (ওনাগার)।

আরব উপদ্বীপ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া বন্যপ্রাণী প্রজাতিগুলো পুনরায় ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় এটিকে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এশীয় বুনো গাধা বা ওনাগার এশিয়া অঞ্চলের আদি বাসিন্দা। এদের বৈজ্ঞানিক নাম ‘ইকুয়াস হেমিওনাস’। এরা ঘোড়ার চেয়ে কিছুটা ছোট এবং আকারে গৃহপালিত গাধার সমতুল্য হলেও এদের গায়ের রং ফ্যাকাসে এবং খাড়া কেশর থাকে।

'প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান রয়্যাল রিজার্ভ' জানিয়েছে, তাদের আরব বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের জুন মাসে একটি পুরুষ ওনাগার শাবক জন্ম নেয়। এই বিশেষ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো আরবের ঐতিহাসিক চারণভূমি বা আবাসস্থলগুলোতে ২৩টি স্থানীয় বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিকে পুনরায় ফিরিয়ে আনা।

ওনাগার শাবকটি সফলভাবে তার জীবনের প্রথম বছর সম্পন্ন করার পরই কেবল রিজার্ভ কর্তৃপক্ষ এই খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে এনেছে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, ওনাগারদের বেঁচে থাকার জন্য প্রথম বছরটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বা সংকটময় সময়। কারণ, তরুণ ওনাগারদের মধ্যে মৃত্যুর হার প্রায় ৫০ শতাংশেরও বেশি হয়ে থাকে।

শাবকটির জন্ম আরবের মরুভূমি থেকে এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে হারিয়ে যাওয়া একটি প্রজাতির সফল প্রত্যাবর্তনকে নির্দেশ করে। রিজার্ভ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এই শীতকালেই আরও দুটি ওনাগার শাবকের জন্ম আশা করছে, যা চলমান প্রজনন ও সংরক্ষণ প্রচেষ্টার সফলতাকে আরও স্পষ্ট করে।

প্রকৃতি সংরক্ষণের আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন (IUCN)-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পুরো বিশ্বে বন্য পরিবেশে ৬০০টিরও কম ওনাগার বেঁচে রয়েছে। শতাব্দীর মধ্যভাগের মধ্যে এই প্রাণীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাওয়ার পূর্বাভাসের জেরে, ২০২৫ সালে প্রজাতিটিকে 'চরম বিপন্ন' হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

বংশগত বা জেনেটিক বৈচিত্র্য আরও শক্তিশালী করতে এই রিজার্ভ কর্তৃপক্ষ তাদের প্রজনন কর্মসূচি আরও বাড়াচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে চলতি বছরের শেষের দিকে জর্ডান থেকে একটি স্ত্রী ওনাগার আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পুরো উদ্যোগটি মূলত সৌদি আরবের সামগ্রিক পরিবেশগত কৌশলের অংশ, যার লক্ষ্য কিংডম বা পুরো দেশজুড়ে জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার করা এবং স্থানীয় বন্যপ্রাণীর সংখ্যা পুনরুজ্জীবিত করা। সূত্র: গালফ নিউজ

YA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত