হরমুজে ইরানের নতুন মাইন, দেখা মাত্রই গুলির নির্দেশ ট্রাম্পের

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর ‘হরমুজ প্রণালি’তে নতুন করে সামুদ্রিক মাইন স্থাপন করেছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্র এবং প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর বরাতে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এইতথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের এই নতুন পদক্ষেপের খবর পাওয়ার পরপরই কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি মার্কিন নৌবাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রণালিতে মাইন স্থাপন করতে দেখা যায় এমন যেকোনো ইরানি নৌযানকে ‘দ্বিধাহীনভাবে’ গুলি করে ধ্বংস করতে পারবে মার্কিন বাহিনী।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে মাইন স্থাপনের ফলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে। সংস্থাটির মতে, এই পরিস্থিতি ১৯৭০-এর দশকের ভয়াবহ তেল সংকটের চেয়েও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। 

উল্লেখ্য, স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট সমুদ্রগামী তেলের ২০ শতাংশ এই রুট দিয়েই পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ শুরুর আগে এখানে প্রতিদিন শতাধিক জাহাজ চলাচল করলেও মাইন আতঙ্কে এখন তা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

এদিকে, ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ আরও কঠোর করতে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ. বুশ’। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অবরোধ শুরুর পর থেকে তারা এ পর্যন্ত অন্তত ৩৩টি জাহাজকে এই রুট থেকে ফিরিয়ে দিয়েছে। রণতরিটির উপস্থিতিতে এখন মাইন অপসারণের কাজ আরও দ্রুততর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মাইন শনাক্ত ও তা নিষ্ক্রিয় করতে মার্কিন নৌবাহিনী বর্তমানে অত্যাধুনিক ‘আন্ডারওয়াটার ড্রোন’ বা ডুবো ড্রোন ব্যবহার করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই মাইন অপসারণ কার্যক্রম ‘তিন গুণ গতিতে’ চালানোর জন্য পেন্টাগনকে নির্দেশ দিয়েছেন।