যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ইরানের নতুন শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনার টেবিলে বসতে সম্মতি জানিয়েছে ইরান। তবে এ জন্য ওয়াশিংটনকে তেহরান-সংক্রান্ত ‘অতিরিক্ত’ দাবিগুলো পরিত্যাগ এবং নমনীয় হওয়ার শর্ত দিয়েছে দেশটি।

সোমবার (৪ মে) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই (Ismail Baghaei) এক টেলিভিশন ব্রিফিংয়ে এই অবস্থান পরিষ্কার করেন।

মুখপাত্র বাঘাই বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো রক্তক্ষয়ী এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানো। তবে এ জন্য অন্য পক্ষকে (যুক্তরাষ্ট্র) অবশ্যই একটি যুক্তিসঙ্গত অবস্থানে আসতে হবে। ইরানকে কোণঠাসা করার জন্য তারা যে অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক দাবিগুলো করছে, তা থেকে তাদের সরে আসতে হবে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেল, গ্যাস ও সারের সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জবাবে ওয়াশিংটন ইরানের সব বন্দরে অবরোধ আরোপ করেছে। 

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন নৌবাহিনী এখন থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে পাহারা (এসকর্ট) দিয়ে নিয়ে যাবে। এর জবাবে ইরানের সামরিক বাহিনী বড় ধরনের পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

বাঘাই তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, “আমেরিকার এখন বোঝা উচিত যে শক্তিপ্রয়োগ বা হুমকির ভাষা দিয়ে ইরানিদের নতিস্বীকার করানো সম্ভব নয়। সংঘাত শুরুর আগে এই জলপথটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ ছিল। বর্তমানে যে অস্থিরতা ও বৈশ্বিক সংকট তৈরি হয়েছে, এর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট (ইসরায়েল) শাসনব্যবস্থাকেই বিশ্ববাসীর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।’

কূটনৈতিক স্তরে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা অবশ্য থেমে নেই। বাঘাই জানান, যুদ্ধের অবসানকল্পে তেহরান ইতোমধ্যে ১৪ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রস্তাবের জবাবও পাঠিয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা