আমিরাতকে কেন টার্গেট করলো ইরান, নেপথ্যে দুই কারণ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাসখানেক পার হতেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে তেহরান। গত সোমবারের (৪ মে) এই আকস্মিক আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার স্থিতিশীলতাকে আবারও সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

সিএনএন-এর একটি বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে ইরানের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র আরব আমিরাতকে লক্ষ্যবস্তু করার পেছনে দুটি বিশেষ কারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

ইরানের এই হামলার একটি অন্যতম কারণ হলো বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরব আমিরাতের প্রভাব খর্ব করা। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার সময় যখন প্রতিবেশী দেশগুলো তেল রপ্তানিতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন আমিরাত ফুজাইরাহ পাইপলাইনের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রেখেছে। এই বিশেষ পাইপলাইনটি হরমুজ প্রণালিকে এড়িয়ে সরাসরি ওমান উপসাগরের সাথে সংযুক্ত, যা সোমবারের হামলার মূল লক্ষ্য ছিল। হামলার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়।

হামলার ঠিক আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে, যেখানে ফুজাইরাহকেও তাদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' কার্যক্রম শুরু হওয়ার সাথে এই হামলার সময়ের মিল থাকায় এটি স্পষ্ট যে, ইরান কেবল হরমুজ প্রণালি নয়, বরং পুরো অঞ্চলের জ্বালানি প্রবাহ বিঘ্নিত করার সক্ষমতা ও ইচ্ছার জানান দিতে চাইছে।

দ্বিতীয় প্রধান কারণটি হলো ইসরাইলের সঙ্গে আরব আমিরাতের ঘনিষ্ঠতা। সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইসরাইল ও আমিরাতের মধ্যকার সম্পর্ক এক নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইল প্রথমবারের মতো কোনো আরব দেশে তাদের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সেনা মোতায়েন করেছে। আমিরাতও তাদের প্রথাগত আরব ও মুসলিম মিত্রদের ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমিয়ে এই কৌশলগত জোটকে শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দিয়েছে।

এই সম্পর্ককে ইরান তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। হামলার পরপরই ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে একজন সামরিক কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, আরব আমিরাত যদি ইসরাইলের ‘ঘুঁটি’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে তাদের এমন শিক্ষা দেওয়া হবে যা তারা কখনো ভুলবে না। 

ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে আমিরাত যদি ইসরাইলের হয়ে কাজ করে তবে তাদেরও শত্রু রাষ্ট্রের অংশ হিসেবেই গণ্য করা হবে।