হরমুজ প্রণালি অবরোধের ফলে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি বিশ্ব। তবে এই ধাক্কা সামলাতে সবচেয়ে কম প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে 'গ্লোবাল সাউথ' বা উন্নয়নশীল দেশগুলো। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং আমদানিতে বিঘ্ন ঘটায় এসব দেশের অর্থনীতি এখন খাদের কিনারায়।
প্যারিসভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) সদস্য দেশগুলোর জন্য ৯০ দিনের তেলের মজুত নিশ্চিত করার নিয়ম থাকলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোর চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। যেখানে উন্নত দেশগুলোর হাতে বিশাল জরুরি মজুত (প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ব্যারেল) রয়েছে, সেখানে দরিদ্র দেশগুলো আমদানিনির্ভর হওয়ায় কোনো 'বাফার' বা সুরক্ষা কবজ ছাড়াই এই সংকটের মোকাবিলা করছে।
জ্বালানি আমদানির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হওয়ায় এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) এই অঞ্চলের ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ৫.১ থেকে কমিয়ে ৪.৭ শতাংশে নামিয়ে এনেছে।
পাকিস্তান: দেশটির কেন্দ্রীয় জ্বালানি মন্ত্রী জানিয়েছেন, তাদের হাতে মাত্র ৫ থেকে ৭ দিনের অপরিশোধিত তেলের মজুত আছে।
বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম: এসব দেশে বর্তমানে ২৩ দিন থেকে এক মাসের তেলের মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৌশলগত তেলের মজুত (SPR) গড়ে তোলা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। পাকিস্তানের টেকসই উন্নয়ন নীতি ইনস্টিটিউটের গবেষক খালিদ ওয়ালিদ জানান, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, খাদ্য আমদানির বিল এবং বিদ্যুৎ ভর্তুকি সামলানো দেশগুলোর জন্য কোটি কোটি ব্যারেল তেল মজুত রাখা একটি 'বিলাসিতা'র মতো। এছাড়া গ্রিড বিপর্যয় এবং শোধনাগার সক্ষমতার অভাবও একটি বড় বাধা।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই সংকট থেকে বাঁচতে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার থেকে নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোই হবে প্রধান রক্ষা কবচ। এছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আইইএ-এর মতো একটি নিজস্ব বা আঞ্চলিক সংস্থা গড়ে তোলার দাবিও জোরালো হচ্ছে, যা জরুরি সময়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি শেয়ারিং নিশ্চিত করতে পারবে। সূত্র: আলজাজিরা