বাতিল হচ্ছে ওসলো চুক্তি

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের তাণ্ডব

আপডেট : ১২ মে ২০২৬, ০২:৫০ পিএম

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ ও ভূমি দখলের হার গত এক সপ্তাহে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। একদিকে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে তাণ্ডব চালাচ্ছে, অন্যদিকে ইসরায়েলি সরকার ওসলো চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে যা মূলত একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ধারণাকে চিরতরে মুছে ফেলার ইঙ্গিত।

গত শুক্রবার ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ দম্ভের সাথে জানান, তারা ফিলিস্তিনিদের লাগানো ৩,০০০ জলপাই গাছ উপড়ে ফেলেছেন। অবৈধ ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। স্মোট্রিচ সরাসরি বলেন, "আমরা ইসরায়েলের ভূমি তৈরি করছি এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ধারণাকে ধ্বংস করছি।" গাছ কাটার পাশাপাশি বসতিস্থাপনকারীরা কৃষি জমি দখল এবং ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে তাদের পৈতৃক ভিটা থেকে বিতাড়িত করছে।

গত রোববার ইসরায়েলি নেসেটের একটি কমিটি ১৯৯৩ সালের ঐতিহাসিক ‘ওসলো চুক্তি’ বাতিলের পক্ষে একটি বিল সমর্থন করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমেই ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (PA) গঠিত হয়েছিল এবং পশ্চিম তীরকে তিনটি অঞ্চলে (এ, বি এবং সি) ভাগ করা হয়েছিল। কট্টরপন্থী সংসদ সদস্য লিমোর সন হার-মেলেচ স্পষ্ট করে বলেছেন, এখন সময় এসেছে ওসলো চুক্তি বাতিল করে ফিলিস্তিনি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতেও (এ এবং বি জোন) নতুন করে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন করার।

পশ্চিম তীরে উত্তেজনার মধ্যেই গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনী তাদের সহিংস অবস্থান বজায় রেখেছে। গত সপ্তাহে সেখানে অন্তত ১৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এবারের হামলায় ইসরায়েলি বাহিনী বিশেষভাবে ফিলিস্তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে জানা গেছে।

ইসরায়েলের এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, তারা কেবল সামরিক শক্তি নয়, বরং আইনি ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা

SN
আরও পড়ুন