প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার শুরুতেই চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এক বিশেষ তত্ত্বের কথা উল্লেখ করেছেন, যা ‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপ’ বা ‘থুসিডাইডিসের ফাঁদ’ নামে পরিচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই ফাঁদ এড়িয়ে চলা এবং সংঘাত থেকে দূরে থাকা।
এই তত্ত্বের মূল উৎস প্রাচীন গ্রিক ইতিহাসবিদ থুসিডাইডিস। তিনি বর্ণনা করেছিলেন কীভাবে প্রাচীন গ্রিসে এথেন্সের ক্রমবর্ধমান শক্তি স্পার্টার মনে ভয়ের সঞ্চার করেছিল এবং এই ভয়ের কারণেই শেষ পর্যন্ত দুই রাজ্যের মধ্যে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়েছিল।
পরবর্তীতে ২০১৫ সালে হার্ভার্ডের অধ্যাপক গ্রাহাম অ্যালিসন এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে বর্তমান বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে ‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপ’ শব্দটি জনপ্রিয় করেন। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, যখন একটি উদীয়মান শক্তি (যেমন: চীন) বর্তমান প্রভাবশালী শক্তিকে (যেমন: যুক্তরাষ্ট্র) চ্যালেঞ্জ জানায়, তখন তাদের মধ্যে উত্তেজনা এতটাই বেড়ে যায় যে শেষ পর্যন্ত তা যুদ্ধে রূপ নেয়।
অধ্যাপক গ্রাহাম অ্যালিসন গত ৬০০ বছরের ইতিহাসের ১৬টি এমন ঘটনা নিয়ে গবেষণা করেছেন যেখানে একটি উদীয়মান শক্তি প্রতিষ্ঠিত শক্তিকে টক্কর দিয়েছে। তার গবেষণায় দেখা গেছে, ১৬টি ঘটনার মধ্যে ১২টি ক্ষেত্রেই দেশগুলো শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল।
বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্ষমতার লড়াইকে বোঝাতে এই শব্দটি নিয়মিত ব্যবহৃত হয়। শি জিনপিং এই ফাঁদের কথা উল্লেখ করে মূলত ট্রাম্পকে এই বার্তাই দিয়েছেন যে, দুই দেশের শত্রুতা যদি মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, তবে তা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে একটি ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে যা কোনো পক্ষই চায় না।
সূত্র: আলজাজিরা