ট্রাম্পের চীন সফর, প্রশংসা জুটলেও প্রাপ্তি সীমিত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার তিন দিনের হাই-প্রোফাইল বেইজিং সফর শেষ করে ওয়াশিংটনে ফিরেছেন। সফর শেষে ট্রাম্প বেশ কিছু অর্থনৈতিক সাফল্যের দাবি এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করলেও, বিশ্লেষকরা একে ‘সীমিত অর্জন’ হিসেবেই দেখছেন। বড় ধরনের কোনো কূটনৈতিক বা ভূ-রাজনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধান ছাড়াই শেষ হলো এই বহুল আলোচিত শীর্ষ সম্মেলন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সফরকালে দুই দেশের শীর্ষ নেতারা বাণিজ্য, জ্বালানি ও কৃষিপণ্যসহ কিছু নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক বিষয়ে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছেন। বিশেষ করে মার্কিন কৃষিপণ্য, গরুর মাংস ও জ্বালানি তেল বিক্রির ক্ষেত্রে অগ্রগতির কথা জানানো হয়েছে। 

ট্রাম্প দাবি করেছেন, চীন বিপুল পরিমাণ মার্কিন বাণিজ্যিক বিমান কিনতে সম্মত হয়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার তুলনায় এই ক্রয়াদেশের পরিমাণ অনেক কম হওয়ায় পুঁজিবাজারে বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং-এর শেয়ারদরে বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে।

সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল ইরান সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি। এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি অবস্থান জানিয়ে বলেছে, এই যুদ্ধ ‘কখনোই শুরু হওয়া উচিত ছিল না’। 

বেইজিংয়ের মতে, এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে দুই দেশ একমত হলেও, ইরানকে আলোচনায় ফেরাতে বেইজিংয়ের কাছ থেকে কোনো শক্ত প্রতিশ্রুতি আদায় করতে পারেনি ওয়াশিংটন।

সফরের বন্ধুত্বপূর্ণ আবহের মধ্যেও তাইওয়ান ইস্যুতে সুর চড়িয়েছে চীন। মার্কিন প্রতিনিধি দলকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বেইজিং জানিয়েছে, তাইওয়ান ইস্যুটি ভুলভাবে পরিচালনা করা হলে তা দুই পরাশক্তির মধ্যে বড় ধরনের সরাসরি সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

এই শীর্ষ বৈঠক মূলত ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা কমিয়ে সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীল করার একটি প্রচেষ্টা ছিল। তবে ইরান নীতি বা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে চীন নিজের অবস্থানে অটল থাকায় বাস্তব অগ্রগতির দিক থেকে ট্রাম্পের এই সফর সীমিত ফলাফলই বয়ে এনেছে।