হরমুজ প্রণালির বিকল্প পথ তৈরির সিদ্ধান্ত আমিরাতের

আপডেট : ১৫ মে ২০২৬, ০৫:১১ পিএম

হরমুজ প্রণালির বিকল্প জ্বালানি রপ্তানি পথ তৈরি করতে নতুন পাইপলাইন প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান আবু ধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোপম্পানি জানিয়েছে, ‘ওয়েস্ট-ইস্ট পাইপলাইন’ প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের আগেই বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আবুধাবি মিডিয়া অফিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আবুধাবির যুবরাজ এই পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে তিনি নিরাপদ পরিচালনা ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কোম্পানির প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।

বৈঠকে যুবরাজকে নতুন ওয়েস্ট-ইস্ট পাইপলাইন প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। ফুজাইরাহ হয়ে তেল রপ্তানির সক্ষমতা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়ে নির্মাণাধীন এই পাইপলাইন ২০২৭ সালে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদা বিবেচনায় প্রকল্পটি দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। 

হাবশান-ফুজাইরাহ পাইপলাইন নামেও পরিচিত এই প্রকল্পটি হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল রপ্তানির বিকল্প পথ হিসেবে কাজ করবে। ওমান উপসাগর উপকূলে ফুজাইরাহ বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত এই পাইপলাইনের দৈনিক ধারণক্ষমতা প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ ব্যারেল বলে জানা গেছে। যদিও বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য সক্ষমতা প্রায় ৭ লাখ ব্যারেল প্রতিদিন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতের জেরে ইরান হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ জোরদারের ঘোষণা দেন এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ তল্লাশি শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও প্রণালিতে চলাচলে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করে।

AHA
আরও পড়ুন