'এটা কেমন যুদ্ধবিরতি', বৈরুতে বাস্তুচ্যুত লেবানিজদের ক্ষোভ

লেবাননে তথাকথিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়ানোর পরেও ইসরায়েলি হামলায় বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। বৈরুতের ইভানজেলিকাল স্কুলে আশ্রয় নেওয়া কয়েকজন বাস্তুচ্যুত লেবাননি ক্ষোভ প্রকাশ করে এই যুদ্ধবিরতিকে একটি 'তামাশা' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

দক্ষিণ লেবানন থেকে পালিয়ে আসা আলী সালামা আবু হানান বলেন, এটি কোনো যুদ্ধবিরতি নয়, এটি আমাদের সাথে এক ধরনের তামাশা। আমরা লেবাননের কর্মকর্তাদের একটি চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। তারা হয় পুরো লেবানন, বৈরুত বা শহরতলি জুড়ে চলা এই ইসরায়েলি আগ্রাসন পুরোপুরি বন্ধ করুক, আর তা না হলে যুদ্ধ থামানোরই দরকার নেই। কারণ এই যুদ্ধবিরতি খুবই ভঙ্গুর। যেকোনো মুহূর্তে ইসরায়েল যা খুশি তাই করতে পারে এবং তাকে থামানোর কেউ নেই।

দক্ষিণ লেবাননের আল-বাবলিয়াহ থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া নাওয়াল মাজহার প্রশ্ন তোলেন, এটা কেমন যুদ্ধবিরতি? তারা প্রতিটি গ্রাম খালি করার সতর্কতা জারি করছে এবং মানুষ অনবরত পালাচ্ছে। সরকার কোথায়? আমরা শুধু প্রতিরোধ যোদ্ধাদের (রেজিস্ট্যান্স) পাশেই আছি—অন্য কিছুর সাথে নয়।

বিনত জবেইলের হাদাথা অঞ্চল থেকে বাস্তুচ্যুত আলী হাসান বারাদা জানান, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন, দক্ষিণে এখনো মানুষ শহীদ হচ্ছেন এবং সেখানে অনবরত হামলা চলছে। আমরা এখনো আহত এবং শহীদদের উদ্ধার করে সরিয়ে নিচ্ছি। এখানে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই। এই যুদ্ধবিরতি আসলে লেবানন রাষ্ট্রের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।