দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চরম অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে লেবানন। তবে সম্প্রতি ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘাতের তীব্রতা দেশটিকে এক নজিরবিহীন মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে লেবাননের এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
লেবাননের অর্থনীতিমন্ত্রী আমের বিসাত আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, গত ২ মার্চ যুদ্ধ তীব্র রূপ নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত লেবানন প্রায় ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে—যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৭ শতাংশ। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর শুধু পুনর্গঠন কাজের জন্যই আরও শত শত কোটি ডলারের প্রয়োজন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৈরুত থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা জেইনা খোদর জানান, "ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার এই সাম্প্রতিক লড়াইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সব মানুষকে সহায়তা করার মতো পর্যাপ্ত সম্পদ বা সক্ষমতা লেবানন সরকারের নেই।" তিনি আরও জানান, সরকার বর্তমানে ১ লাখ ২০ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দিতে পারলেও, আরও কয়েক লাখ মানুষ কোনো সরকারি সাহায্য ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে বেঁচে থাকার লড়াই চালাচ্ছেন। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এই নতুন সংঘাত যখন শুরু হয়, তখন লেবানন ২০২৪ সালের পূর্ববর্তী যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টায় ছিল।
অর্থনীতিমন্ত্রী আমের বিসাত আরও উল্লেখ করেন, গত মাত্র পাঁচ সপ্তাহে প্রায় ১২ লাখ (১.২ মিলিয়ন) মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যুদ্ধের এই ভয়াবহ প্রভাব লেবাননের প্রতিটি খাতে পড়েছে- অসংখ্য মানুষ চাকরি হারিয়েছেন, খামারগুলোর উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে, উৎপাদনকারী কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং পর্যটন খাত পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।
ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর হামলা