মালদ্বীপের একটি প্রবাল দ্বীপের পানির নিচের গভীর গুহা থেকে নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর চার ইতালিয় পর্যটকের মরদেহের সন্ধান পেয়েছে উদ্ধারকারীরা।
এর আগে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়ে স্থানীয় এক সামরিক ডুবুরির মৃত্যু হলে তল্লাশি কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর আবারও অভিযান শুরু করে এই সাফল্য পাওয়া যায়।
ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্রের সরকার নিশ্চিত করেছে যে, মালদ্বীপ পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সহায়তায় ফিনল্যান্ডের তিনজন বিশেষজ্ঞ ডুবুরি গুহাটির সবচেয়ে ভেতরের অংশে মরদেহগুলোর সন্ধান পান।
মালদ্বীপ সরকারের মুখপাত্র আহমেদ শাম জানান, যেমনটা আগে ধারণা করা হয়েছিল, চারজনের মরদেহ গুহার ভেতরেই পাওয়া গেছে। তবে তারা কেবল গুহার ভেতরেই ছিলেন না, বরং গুহাটির বেশ গভীরে তৃতীয় অংশে ছিলেন, যা এই গুহা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় অংশ।
তিনি আরও জানান, ওই চারজনকে ‘প্রায় একসঙ্গেই’ পাওয়া গেছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করেই আগামী দুদিনের মধ্যে মরদেহগুলো ধাপে ধাপে পানির ওপরে তুলে আনার চেষ্টা করা হবে।
ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার এই পর্যটকেরা 'ভাভু অ্যাটল'-এর প্রায় ৫০ মিটার (১৬০ ফুট) গভীর একটি গুহা অন্বেষণ করছিলেন।
উল্লেখ্য, মালদ্বীপে বিনোদনমূলক ডাইভিংয়ের সর্বোচ্চ অনুমোদিত সীমা ৩০ মিটার।
এর আগে গুহার বাইরে থেকে পঞ্চম ইতালিয় নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, যিনি এই দলটির ডাইভিং ইন্সট্রাক্টর (ডুবুরি প্রশিক্ষক) ছিলেন।
অনুসন্ধান অভিযান চলাকালে মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের সদস্য মোহাম্মদ মাহুদি পানির নিচে ‘ডিকম্প্রেশন সিকনেস’-এ আক্রান্ত হন এবং গত শনিবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
গভীর সমুদ্র এবং গুহা ডাইভিংয়ে বিশেষজ্ঞ ফিনল্যান্ডের তিন ডুবুরি বিশেষ সহায়তার জন্য গত রোববার মালদ্বীপে পৌঁছান।
প্রাথমিক উদ্ধারকারী দলগুলো গুহার প্রবেশদ্বারটি চিহ্নিত করার পর এই বিশেষজ্ঞরা ভেতরে প্রবেশ করেন। তবে ইতালিয় পর্যটকদের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান