কুরবানির ঈদে পশুর হাটে কড়াকড়ি

পশ্চিমবঙ্গে চরম বিপাকে হিন্দু খামারিরা, আত্মহত্যার হুমকি

আপডেট : ১৯ মে ২০২৬, ০২:৫৮ এএম

পশ্চিমবঙ্গে কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে গবাদি পশুর হাট এবং জবাই প্রক্রিয়ায় নতুন প্রশাসনিক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যজুড়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। 

এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে সাধারণ পশু খামারিদের ওপর। বিশেষ করে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের হিন্দু গরু খামারিরা চরম বিপাকে পড়েছেন বলে জানা গেছে। লোকসানের মুখে পড়ে অনেক খামারি আত্মহত্যার হুমকিও দিচ্ছেন।

ক্রেতা সংকটের কারণে রাজ্যের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পশুর হাট এখন কার্যত শূন্য হয়ে পড়েছে।

লোকসানের মুখে খামারিরা: প্রশাসনিক হয়রানির আশঙ্কা

ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের অভিযোগ, তারা সারা বছর ব্যাংক বা বিভিন্ন এনজিও থেকে ধারদেনা করে গরু পালন করেন। মূলত কুরবানির ঈদের মৌসুমে ভালো দামে পশু বিক্রি করে সেই ঋণ পরিশোধ এবং সারা বছরের সংসার খরচ তোলার আশা করেন তারা। 

কিন্তু নতুন নিয়মকানুন ও প্রশাসনিক কড়াকড়ির কারণে ক্রেতারা এখন হাটে আসতে ভয় পাচ্ছেন। আইনি জটিলতার আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতা পিছিয়ে যাচ্ছেন।

এর ফলে পশু বিক্রি প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং ক্ষুদ্র খামারিদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ ও ঋণের বোঝা দ্রুত বাড়ছে।

কী আছে নতুন সরকারি নির্দেশনায়?

নতুন সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না করে কোনো গরু বা মহিষ জবাই করা যাবে না।

নিয়মগুলো হলো:

যৌথ অনুমোদন: পশু জবাইয়ের আগে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি ও সরকারি পশু চিকিৎসকের যৌথ অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক।

শারীরিক পরীক্ষা: পশুর বয়স, শারীরিক অবস্থা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

গর্ভবতী পশু: গর্ভবতী পশু জবাইয়ের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

নির্দিষ্ট স্থান: খোলা জায়গায় পশু জবাই করা যাবে না; শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত কসাইখানায় জবাই করতে হবে।

শাস্তি: এই আইন অমান্য করলে মোটা অঙ্কের জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে জটিলতা ও জনমনে প্রশ্ন

এই পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, মাঠপর্যায়ে একটি গরুর সঠিক বয়স নির্ধারণ কীভাবে সম্ভব? 

কারণ, গ্রামীণ এলাকার অধিকাংশ প্রান্তিক খামারির কাছে পশুর বয়স প্রমাণের কোনো নির্ভরযোগ্য কাগজপত্র থাকে না। এর ফলে মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক হয়রানি ও দুর্নীতির ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

মুর্শিদাবাদসহ পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি সীমান্তবর্তী ও বড় জেলার পশুর হাটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতা এবং ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি উলে­খযোগ্যভাবে কমে গেছে। আইনি জটিলতা এবং পুলিশি ঝামেলার ভয়েই অনেকে হাটে আসছেন না বলে স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

সারা বছরের কষ্টার্জিত গবাদি পশু বিক্রি করতে না পেরে এখন চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে খামারি পরিবারগুলো। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে বড় ধরনের মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

HN
আরও পড়ুন