মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন।
তবে নিজের এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকজন শীর্ষ নেতার অনুরোধকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করে এক প্রকার দায় চাপিয়েছেন অন্যদের ঘাড়ে।
সম্প্রতি এক বিবৃতিতে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে আগামীকাল যে সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের ছিল, তা ওই অঞ্চলের কয়েকজন নেতার বিশেষ অনুরোধে আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।’
যেসব নেতার অনুরোধের কথা বললেন ট্রাম্প
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী তিন নেতা তাকে এই হামলা স্থগিত করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা হলেন:
কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান
ট্রাম্প জানান, ইরান ইস্যুতে বর্তমানে অত্যন্ত ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ চলমান রয়েছে। আর এই আলোচনার স্বার্থেই মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা তাকে হামলা না চালানোর অনুরোধ করেছেন।
মূল লক্ষ্য: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা
যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সাথে সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হবে—তেহরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা।
তিনি আরও জানান, তিনি ইতিমধ্যেই মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব (যুদ্ধমন্ত্রী) পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের প্রধান এবং মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে আগামীকালের নির্ধারিত হামলা বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।
চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি
তবে হামলা স্থগিত করলেও সুর নরম করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি চলমান আলোচনা বা চুক্তি ব্যর্থ হয়, তবে মার্কিন সেনাবাহিনীকে যেকোনো মুহূর্তে ইরানের বিরুদ্ধে ‘বিস্তৃত ও ভয়াবহ হামলা’ শুরু করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।