যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবে এখনো বিস্তর ফারাক, আগামী অনিশ্চিত

আপডেট : ১৯ মে ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ নিরসনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার কূটনৈতিক আলোচনা বর্তমানে এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তেহরান থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাবের সংশোধনীগুলো পর্যালোচনা করে পাকিস্তান দূতাবাসের মাধ্যমে নিজেদের আনুষ্ঠানিক জবাব পাঠিয়েছে ইরান। তবে এই জবাবের পর দুই দেশের মধ্যকার দূরত্ব কমেনি বরং আরও স্পষ্ট হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আসা দাবিগুলো অত্যন্ত অবাস্তব এবং ভিত্তিহীন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের মধ্যে যে বিশাল রাজনৈতিক ও কৌশলগত বাধা রয়েছে, তা অতিক্রম করা বর্তমানে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আলোচনার মূল জটিলতা তৈরি হয়েছে পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ এবং অর্থনৈতিক অবরোধ নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে ইরানকে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে, যা ইরান তাদের সার্বভৌমত্বের অধিকার হিসেবে দাবি করে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। এছাড়া যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। অর্থনৈতিক ফ্রন্টেও বড় ধরনের মতভেদ দেখা দিয়েছে; ইরান তাদের বিদেশে আটকে থাকা শতভাগ সম্পদ ফেরত চাইলেও যুক্তরাষ্ট্র কেবল ২৫ শতাংশ সম্পদ ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি নিয়ে দুই পক্ষ এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে।

এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড কেন্দ্র থেকে এক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, শত্রুপক্ষ যদি কোনো ভুল পদক্ষেপ নেয়, তবে ইরান তার সর্বশক্তি দিয়ে তা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান বর্তমানে একদিকে যেমন কূটনীতির দরজা খোলা রেখেছে ঠিক তেমনি সমান্তরালভাবে যেকোনো সামরিক পরিস্থিতির জন্য সক্রিয় যুদ্ধ প্রস্তুতিও চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা

SN
আরও পড়ুন