যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মধ্যপ্রাচ্যের একদল শীর্ষ নেতার সাথে গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ শেষ করার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এই ইতিবাচক মন্তব্য করেন।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই কূটনৈতিক বরফ গলাতে এবং সংঘাতের একটি স্থায়ী ও টেকসই শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করতে পর্দার আড়াল থেকে অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান।
বেশ কয়েকটি বন্ধু রাষ্ট্রকে সাথে নিয়ে একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছানোর এই পুরো আলোচনা প্রক্রিয়াটির সফল অগ্রগতি ও তদারকিতে শুরু থেকেই মূল অনুঘটকের ভূমিকা পালন করে আসছে ইসলামাবাদ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটাতে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক "অনেকটাই সম্পন্ন" হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার (২৩ মে) ট্রাম্প জানান, এই সম্ভাব্য চুক্তির মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে চুক্তিটি এখনো আমেরিকা ও ইরানের আলোচনাকারী দল এবং "বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী দেশের" মাধ্যমে চূড়ান্তকরণের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেওয়ার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), পাকিস্তান, জর্ডান, মিশর, তুরস্ক এবং বাহরাইনের শীর্ষ নেতা ও কর্মকর্তাদের সাথে এক যৌথ ফোনালাপে অংশ নেন। এর পাশাপাশি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথেও তিনি পৃথক একটি ফোনালাপ করেন।
ফোনালাপ শেষে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, এই চুক্তির চূড়ান্ত দিক ও খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে এবং খুব শিগগিরই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ শুরু করে। তবে গত ৮ এপ্রিল থেকে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া যুদ্ধটি মূলত স্থগিত বা থমকে রয়েছে। বর্তমানে আমেরিকা ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রেখেছে, যার বিপরীতে ইরানও কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে।
তেহরানের কর্মকর্তারা অবশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার বিষয়ে বরাবরই সতর্ক ও সন্দিহান। কারণ এর আগেও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলাকালীন দুইবার ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা। বর্তমানে এই চুক্তির ক্ষেত্রে প্রধান জটিলতার বিষয়গুলো হলো—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের প্রভাব, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ভবিষ্যৎ এবং বিভিন্ন ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের ফ্রিজড বা বাজেয়াপ্ত তহবিল বা অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি। সূত্র: আল জাজিরা