স্পিকার নবী বেরি

আমরা একসাথে লেবাননকে মুক্ত ও পুনর্গঠন করবো

`ইসরায়েল লেবাননের ওপর প্রতিশোধ নিতে এক মুহূর্তও দ্বিধা করবে না। তবে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের দেশকে শত্রুমুক্ত এবং পুনর্গঠন করতে সম্পূর্ণ সক্ষম।' 

লেবাননের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলের মুক্তির ঐতিহাসিক বার্ষিকীতে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে এমন দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন লেবাননের সংসদের স্পিকার নবী বেরি।

পার্সটুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৫শে মে লেবাননের দক্ষিণ অঞ্চল থেকে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসানের (মুক্তি দিবস) বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই

নবী বেরি তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, এবারের ২৫ মে এমন এক জটিল সময়ে এসেছে, যখন গত তিন বছর ধরে লেবাননের ভূমি, জনগণ এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব ক্রমাগত ইসরায়েলি আগ্রাসনের শিকার হচ্ছে।

তিনি বলেন, "গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই আগ্রাসন ভয়াবহ গণহত্যা ও চরম ধ্বংসযজ্ঞের রূপ নিয়েছে। দক্ষিণ লেবানন, বেকা উপত্যকা এবং বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনী বেসামরিক জীবনের সমস্ত দিককে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।"

‘ছোট জিহাদ’ ও ‘বড় জিহাদ’-এর গুরুত্ব

২০০০ সালের মে মাসে লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের ঐতিহাসিক ঘটনা স্মরণ করে স্পিকার বলেন:

“২০০০ সালের মে মাসে ভূমি ও জনগণের মুক্তি ছিল মূলত ‘ছোট জিহাদ’। এর জন্য আমাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ, শাহাদাত এবং বন্দিত্ব বরণ করতে হয়েছে। তবে এই অর্জনকে টিকিয়ে রাখা, সংরক্ষণ করা এবং দেশকে রক্ষা করাই হলো বর্তমান সময়ের ‘বড় জিহাদ’।”

ইসরায়েলি নিষ্ঠুরতার সমালোচনা

লেবাননের স্পিকার সতর্ক করে বলেন, লেবানন থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর থেকেই দখলদার ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থা প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে আছে। লেবানন বিশ্বকে যে মর্যাদা, জাতীয় ঐক্য ও আত্মত্যাগের শিক্ষা দিয়েছে—তা ইসরায়েলের মতো একটি বর্বর শাসনব্যবস্থার কাছে দুর্বোধ্য। কারণ তারা কেবল হত্যা, ধ্বংস, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, শিশুহত্যা এবং মানবিক মূল্যবোধের অবমাননা করতেই অভ্যস্ত।

ঐক্য ও আত্মত্যাগের আহ্বান

কাকতালীয়ভাবে এ বছরের মুক্তি দিবস এবং পবিত্র ঈদুল আযহা প্রায় একই সময়ে উদযাপিত হচ্ছে। এই প্রসঙ্গ টেনে নবী বেরি বলেন, এটি এমন একটি সময় যখন দেশের সকল জাতিসত্তা, বর্ণ ও ধর্মের মানুষ আল্লাহর আনুগত্যে এবং দেশের অভিন্ন লক্ষ্যে একত্রিত হয়েছে।

বিবৃতির শেষে লেবাননের সংসদের স্পিকার দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত রক্ষা এবং যেকোনো ধরনের বিদেশি আগ্রাসন রুখে দিতে দেশবাসীকে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ ও দৃঢ়তা প্রদর্শনের আহ্বান জানান।