মার্কিন-ইরান চুক্তিতে লেবানন কী অন্তর্ভুক্ত?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হলেও, এই চুক্তিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত কি না তা নিয়ে এখনও বড় ধরনের ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

তেহরান বরাবরই জোর দিয়ে বলে আসছে যে, লেবানন ও ইরানের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয়। তবে লেবানন সরকার এই আলোচনার সাথে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।

মার্কিন-ইরান আলোচনা নিয়ে লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, লেবানন এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অংশ নয়। ইরানের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, "ইরান লেবাননের পক্ষে কথা বলার অধিকার রাখে না।" এটিকে তিনি লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে অভিহিত করেছেন।

উদ্ভূত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেই আগামী ২২ জুন ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের সাথে লেবাননের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই বৈঠককে সামনে রেখে রাষ্ট্রপতি জোসেফ আউন ইতিমধ্যেই লেবানন সেনাবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডারদের সাথে বিশেষ আলোচনা করেছেন।

তবে দক্ষিণ লেবানন সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের অবস্থান এখনো অনেক দূরে। লেবানন সরকার তাদের দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে। অপরদিকে, ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম জানিয়েছে, সেনা প্রত্যাহারের আলোচনার টেবিলে বসার আগেই তেল আবিব একটি শর্ত জুড়ে দেবে। তাদের দাবি—তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’-এর বাইরে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লেবানন সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

যখন এই সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, ঠিক তখনই লেবাননের বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন। কূটনৈতিক আলোচনার মাঝেই ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে তাদের স্থল অভিযান আরও জোরদার করেছে এবং ক্রমাগত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে সম্ভাব্য মার্কিন-ইরান চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে কতটা শান্তি ফেরাবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা