মাদক পাচারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরলান্ডো হার্নান্দেজ। তবে, গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ক্ষমা করার পর রোববার (২৬ জুলাই) তিনি নিজ দেশে ফিরেছেন।
রাজধানী তেগুসিগালপার কাছে পালমেরোলা বিমানবন্দরে একটি ব্যক্তিগত বিমানে করে পৌঁছান হার্নান্দেজ। সেখানে তার পরিবার ও সমর্থকরা তাকে স্বাগত জানান বলে জানিয়েছে এএফপির সাংবাদিকরা। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
শতাধিক সমর্থকের এক সমাবেশে হার্নান্দেজ ট্রাম্পের ক্ষমার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে ভালো তথ্য জানা প্রেসিডেন্ট বলেছেন—আমি বিষয়টি পর্যালোচনা করেছি, আমার দল ও আমি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছি; এখানে ভয়াবহ অন্যায় হয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি এবং বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।’
আগামী ৩ আগস্ট আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে হার্নান্দেজের। তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ রয়েছে, যা তিনি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তিনি এখনও ‘হয়রানির শিকার’ হচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, নিজের প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার অর্থ জোগাতে তিনি সরকারি তহবিলের ২০ লাখ ডলার সরিয়ে নিয়েছিলেন।
স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হওয়ার বিষয়ে সম্মত হওয়ার পর একজন বিচারক তার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিত করেছেন।
হার্নান্দেজ ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মধ্য আমেরিকার দেশ হন্ডুরাসের নেতৃত্ব দেন। তবে ক্ষমতা ছাড়ার পরপরই তার বামপন্থি উত্তরসূরি জিওমারা কাস্ত্রোর সরকার তাকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগ মোকাবিলার জন্য প্রত্যর্পণ করে।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালতের অভিযোগ ছিল, মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদক সম্রাট হোয়াকিন ‘এল চাপো’ গুজমানসহ বিভিন্ন মাদক চক্রের সঙ্গে যোগসাজশ করে তিনি কলম্বিয়ায় উৎপাদিত শত শত টন কোকেন যুক্তরাষ্ট্রে পাচারে সহায়তা করেছেন।
তবে, হন্ডুরাসের গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কয়েক দিন আগে আকস্মিকভাবে ট্রাম্প হার্নান্দেজকে ক্ষমা করে দেন।
এ সময় ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ও রক্ষণশীল প্রার্থী নাসরি আসফুরা নির্বাচনে জয়ী না হলে হন্ডুরাসকে দেওয়া সহায়তা বন্ধ করা হতে পারে।
ট্রাম্পের এই হস্তক্ষেপ হন্ডুরাসে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। কাস্ত্রো ও তার মিত্ররা নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলেন। শেষ পর্যন্ত আসফুরাই নির্বাচনে জয়ী হন।
সম্প্রতি লাতিন আমেরিকায় মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এই ক্ষমার ঘটনায় দ্বিচারিতার অভিযোগ ওঠে। ওই অভিযানে মাদক চক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা নৌযানে হামলা চালানো হয়েছিল।
ক্ষমা ঘোষণার সময় ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছিলেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন হার্নান্দেজকে ‘ফাঁসিয়েছে’।
হার্নান্দেজের এক সমর্থক ইভা আমাদোর বলেন, ‘তাকে ফিরে পেয়ে আমরা খুবই আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত।’ এ সময় তার হাতে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানানো একটি ব্যানার ছিল।
হার্নান্দেজ আগে বলেছিলেন, তিনি ‘কোনো নির্বাচনী আকাঙ্ক্ষা ছাড়াই’ দেশে ফিরছেন।
২০১৭ সালে তার পুনর্নির্বাচন ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়ে। প্রথমে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের একটি সিদ্ধান্তের কারণে তিনি সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও পরপর দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার সুযোগ পান। পরে ভোটে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
নির্বাচন-পরবর্তী বিক্ষোভ দমনে হার্নান্দেঞ্জের নির্দেশে অভিযান চালানো হয় এবং প্রায় ৩০ জন নিহত হন।
আইন বিশ্লেষক জোয়াকিন মেহিয়া এএফপিকে বলেন, ‘এসব অপরাধের জন্য কোনো শাস্তি ছাড়াই এবং সম্পূর্ণ দায়মুক্তি নিয়ে তার ফিরে আসা ভুক্তভোগীদের প্রতি বড় ধরনের আঘাত।’ সূত্র: বাসস
মোদিবিরোধী পোস্টদাতাদের শনাক্তে তৎপর দিল্লি পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলায় নিহত ২, আহত ৫
ইরানে হামলা নিয়ে ট্রাম্পের একের পর এক ‘এআই’ ছবি
বার্লিন প্রাইডে হামলা: সন্দেহভাজনকে হত্যা করলো পুলিশ
ব্যর্থ ও ক্লান্ত হয়ে ইরানে হামলা বন্ধ করেছে দিশেহারা যুক্তরাষ্ট্র