উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর।
এনডিটিভি রোববার (১৪ জুন) জানিয়েছে, ওয়াশিংটন এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করতে অস্বীকার করায় তিনি দেশটিকে এক ‘অমানবিক বন্ধু’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
কৌশলগত অংশীদার হওয়ার পরেও নির্দোষ ভারতীয়দের প্রাণহানিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই সংবেদনহীন আচরণকে তিনি নজিরবিহীন বলে মনে করছেন।
গত সপ্তাহে ওমান উপকূলে পালাউয়ের পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাংকার ‘সেত্তেবেলো’ মার্কিন হামলার শিকার হয়। এতে জাহাজে থাকা ২৪ জন ভারতীয়র মধ্যে ২১ জনকে উদ্ধার করা গেলেও ডেক ক্যাডেট আদিত্য শর্মা, ইঞ্জিন ফিটার শিবানন্দ চৌরাসিয়া এবং চিফ ইঞ্জিনিয়ার পাতনালা সুরেশ প্রাণ হারান।
ভারত এই ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে যে, এই ধরনের প্রাণঘাতী হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তার মার্কিন সমকক্ষ মার্কো রুবিওকে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এমন আক্রমণ মোটেও যৌক্তিক নয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের তেল পরিবহনের ওপর তাদের যে অবরোধ রয়েছে, তা লঙ্ঘন করলে কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর উচিত তাদের বাহিনীর নির্দেশ মেনে চলা।
তবে এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট নন সাবেক কূটনীতিক শশী থারুর। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একটি অবাধ্য জাহাজ থামানোর জন্য কেন ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে মানুষ মারতে হবে? কেন অন্য কোনো অহিংস উপায়ে জাহাজের ইঞ্জিন বা স্টিয়ারিং অকেজো করা হলো না?
থারুর মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলাচলকারী প্রায় প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজেই ভারতীয় নাবিকরা কাজ করেন। যুক্তরাষ্ট্র কি তবে সবাইকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর অধিকার রাখে?
গত এক সপ্তাহে সেত্তেবেলো ছাড়াও এমটি মারিভেক্স এবং জলবীর নামের আরও দুটি জাহাজে মার্কিন নৌবাহিনী হামলা চালিয়েছে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা অবরোধ ও যুদ্ধের কারণে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে, যা আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ভারত এই পরিস্থিতির অবসান চেয়ে নিজেদের গভীর উদ্বেগের কথা আবারো জানিয়েছে।
সূত্র: এনটিটিভি