বিশ্বজুড়ে শিশুদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে টানা তৃতীয় বছরের মতো দখলদার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এই তথ্য জানিয়েছে।
জাতিসংঘের গত ৩০ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম শিশুদের অধিকার হরণ ও সহিংসতার জন্য কোনো দেশের সরকারি বাহিনী এত বড় মাত্রায় দায়ী হিসেবে চিহ্নিত হলো, যেখানে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ইসরায়েল এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া।
প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা ওই নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী শিশুদের ওপর নির্যাতনের হার নজিরবিহীন ও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। বছরটিতে মোট ২৪,১৭৪ জন শিশুর বিরুদ্ধে ৩৮,৫৫৮টি গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনা শতভাগ যাচাই করেছে জাতিসংঘ। ভুক্তভোগীদের মধ্যে ১৫,৪৯৩ জন ছেলে এবং ৭,৯৯০ জন মেয়ে শিশু রয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, আগের বছরের তুলনায় বিশ্বব্যাপী শিশু নিহতের হার ৩৪ শতাংশ এবং আহত হওয়ার হার ১০ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে ইসরায়েল ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে (গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম), যেখানে রেকর্ড ১২,৪৪৫টি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ফিলিস্তিনের বাইরে কঙ্গোতে ৪,১১৪টি, নাইজেরিয়ায় ২,৫৬০টি, মিয়ানমারে ২,২০৩টি এবং সোমালিয়ায় ২,১৯৫টি লঙ্ঘনের ঘটনা নথিবদ্ধ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র:
নিহত ও আহত: মোট ৬,২৬৬ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে এবং ৭,৯৫৮ জন গুরুতর আহত হয়েছে।
অপহরণ ও জোরপূর্বক নিয়োগ: ৪,৫৭৩টি শিশুকে অপহরণ করা হয়েছে এবং ৬,৬০৭ জনকে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীতে জোর করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মানবিক সহায়তা বঞ্চিত: ৮,৩২২ জন শিশু জরুরি মানবিক বা জীবন রক্ষাকারী সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল অঞ্চলে শিশুদের ওপর চলা এই বর্বরতায় গভীর মর্মাহত ও স্তম্ভিত প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে গাজায় চলমান নির্মমতা এবং পশ্চিম তীরের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, ইসরায়েলি দখলদারদের হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়লেও অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার কোনো লক্ষণ নেই, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। সূত্র: আনাদোলু