যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি না মানলে ইরানও চুক্তি ভাঙবে: ইসমাইল বাঘাই

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ওয়াশিংটন তাদের প্রতিশ্রুতি কতটা মেনে চলছে, তা ইরান ‘কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে’ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানিয়েছে তেহরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই দেশটির গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করে বলেন, ওয়াশিংটন যদি চুক্তির শর্ত বা নিজেদের বাধ্যবাধকতা এড়ানোর চেষ্টা করে, তবে ইরানও তার নিজস্ব প্রতিশ্রুতিগুলো ‘পূরণ করবে না’।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, আগামী ৬০ দিনের আলোচনা প্রক্রিয়ার মধ্যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

তবে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ। বাঘাই কঠোর ভাষায় বলেন, “ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কেবল নিক্ষেপ করার জন্য, আলোচনার জন্য নয়। কোনো পক্ষের সাথে কোনো প্রক্রিয়াতেই ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করা হবে না।”

ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশের বাইরে পাঠানোর সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন বাঘাই। একে তিনি একটি “অনভিপ্রেত বা অগ্রহণযোগ্য বিকল্প” হিসেবে বর্ণনা করেন।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছে তেহরান। ট্রাম্প এই নৌপথ দিয়ে চলাচল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ও উন্মুক্ত হবে বলে দাবি করলেও, বাঘাই জানিয়েছেন, তেহরান সেখানে ‘সেবামূলক কাজের জন্য ফি বা টোল আদায় করবে’। এর অর্থ হলো, এই জলপথ অতিক্রমকারী জাহাজগুলোকে ইরানকে অর্থ প্রদান করতে হবে।

অন্যদিকে লেবানন প্রসঙ্গে বাঘাই উল্লেখ করেন, ইরান প্রমাণ করেছে যে তারা “বিপদের দিনে বন্ধুদের ফেলে চলে যায় না”। তিনি আরও যোগ করেন, ইরানকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ইসরায়েল যেন মেনে চলে, তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব এখন যুক্তরাষ্ট্রের। সূত্র: আল জাজিরা