ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি, ইসরায়েলি শেয়ারবাজারে ধস

ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি ঘোষণার পর তেল আবিব শেয়ার-বাজার তথা স্টক এক্সচেঞ্জে ব্যাপক বিক্রির চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এতে বাজারমূল্যে তীব্র পতন দেখা গেছে।

তাসনিম সংবাদ সংস্থার বরাতে পার্সটুডে জানিয়েছে, ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা ঘোষণার পর ইসরায়েলি পুঁজিবাজার সাম্প্রতিক মাসগুলোর অন্যতম বৃহৎ বিক্রির ঢেউয়ের মুখে পড়েছে।

এর ফলে বাজার থেকে হারিয়ে গেছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মূলধন।

তেল আবিব স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেনের ধারা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বাজারের প্রধান সূচকগুলো ধারাবাহিকভাবে পতনের মুখে পড়েছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের সাতে ওয়াশিংটনের মধ্যে চুক্তির পর বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার পরিবর্তন এবং ইসরায়েলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতের মুনাফা কমে যাওয়ার আশঙ্কাই এর প্রধান কারণ।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের শেয়ার মার্কেটের প্রায় ৪২ বিলিয়ন ডলার মূল্য বিলীন হয়ে গেছে। এই ক্ষতি গত কয়েক মাসে তেল আবিব স্টক এক্সচেঞ্জে অর্জিত উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির বড় একটি অংশকে মুছে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি হ্রাস এবং জ্বালানি পরিবহন পথগুলো পুরোপুরি পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনাকে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। 

তবে একই সঙ্গে ইসরায়েলি বাজার যে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত সুবিধার প্রত্যাশা করছিল, তার একটি অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে।

ইহুদিবাদী ইসরায়েলের অর্থনৈতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুন মাসের শুরু থেকে TA-125 সূচক প্রায় ৮ শতাংশ এবং TA-90 সূচক প্রায় ১১ শতাংশ কমেছে। 

এই নিম্নমুখী প্রবণতার ফলে চলতি বছরে তেল আবিব স্টক এক্সচেঞ্জের অর্জিত সাফল্যের একটি বড় অংশ হারিয়ে গেছে।

ফলে, এমন এক সময়ে যখন বিশ্বের অনেক বাজার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে অর্থনৈতিক ঝুঁকি কমানো এবং বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির একটি ইতিবাচক উপাদান হিসেবে দেখছে। 

তখন তেল আবিব স্টক এক্সচেঞ্জ এই ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম বড় ক্ষতির শিকার বা ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং এর বাজারমূল্য থেকে কয়েক দশক বিলিয়ন ডলার হারিয়ে গেছে।