মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনায় ইরানের হামলা, ক্ষয়-ক্ষতির তথ্য জানালো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের টানা দ্বিতীয় দিনের বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে এ হামলায় বড় কোনো ক্ষক্ষতি বা মার্কিন সেনা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।

রোববার (২৮ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে। 

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, কুয়েতের ‘আলি আল সালেম’ মার্কিন বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের রাজধানী মানামার পোর্ট সালমানে অবস্থিত মার্কিন ‘পঞ্চম নৌবহরকে’ লক্ষ্য করে তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় অবস্থানে মার্কিন বোমা হামলার জবাবে এই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি আইআরজিসির।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক মার্কিন কর্মকর্তা ইরানের হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বাহরাইন ও কুয়েতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে ইরান। পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি এবং মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

এর আগে, একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নির্দেশে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানে রাতভর ব্যাপক অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় এই সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মার্কিন হামলায় ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন মজুতকেন্দ্র এবং মাইন স্থাপনের সক্ষমতাকে ধ্বংস করার দাবি করেছে সেন্টকম।