ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং এর প্রভাবে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে অনুগত সমর্থকদের বড় অংশ এখনো তার পাশেই রয়েছে। তবে তরুণ ও অপেক্ষাকৃত মধ্যপন্থী রিপাবলিকানদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের কিংসপোর্ট শহরকে ঘিরে বিবিসির প্রতিবেদনে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার বর্তমান চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। অ্যাপালাচিয়ান অঞ্চলের এই শহরটি ঐতিহাসিকভাবে ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়েও এখানকার অধিকাংশ বাসিন্দা সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন কিংবা যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করছেন।
কিংসপোর্টের অর্থনীতির সঙ্গে ইরান যুদ্ধের একটি সরাসরি যোগসূত্রও রয়েছে। শহরের কাছে অবস্থিত হলস্টন আর্মি অ্যামুনিশন প্ল্যান্টে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র, ওয়ারহেডসহ বিভিন্ন ভারী অস্ত্রের জন্য বিস্ফোরক তৈরি হয়। কারখানাটিতে প্রায় ১ হাজার মানুষ কাজ করেন।
৬৫ বছর বয়সী পাম রবিনসন বলেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে তিনি সমর্থন করেন। সাবেক সেনাসদস্য ডেভিড কার্টারও মনে করেন, বিদেশে গিয়ে হুমকি মোকাবিলা করা জরুরি, যাতে তা যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এসে না পৌঁছায়।
আরেক সাবেক সেনাসদস্য ৬৩ বছর বয়সী জেমস ক্যাম্পার আরও কঠোর অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ইরানকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া উচিত।
তবে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় চাপ পড়েছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে তার অনুমোদন ৩২ শতাংশে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধের পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়াই তার জনপ্রিয়তা কমার অন্যতম প্রধান কারণ।
তবে কিংসপোর্টে অনেক ট্রাম্প সমর্থক এসব সমস্যার জন্য সরাসরি প্রেসিডেন্টকে দায়ী করছেন না। ৫৩ বছর বয়সী ড্যানিয়েল ওভারস্ট্রিটের মতে, ট্রাম্প ভালো কাজ করছেন, কিন্তু কংগ্রেস ও সিনেটসহ নানা পক্ষ তাকে বাধা দিচ্ছে। খাদ্য ও জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের হাতও অনেকটা বাঁধা বলে মনে করেন তিনি।
৭৫ বছর বয়সী ধর্মপ্রচারক উইলিয়াম বোগলও ট্রাম্পের প্রতি আস্থা ধরে রেখেছেন। তার মতে, ট্রাম্প নিখুঁত নন এবং কিছু ক্ষেত্রে তাকে আরও ভালো করতে হবে। কিন্তু তার সমর্থকদের কাছে এখনো বিকল্প কোনো প্রার্থী নেই।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের মূল সমর্থকগোষ্ঠী বা ম্যাগা সমর্থকদের সঙ্গে অপেক্ষাকৃত মধ্যপন্থী রিপাবলিকান ও স্বতন্ত্র ভোটারদের অবস্থানের পার্থক্য স্পষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে হতাশার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মেরি হেরন বলেন, তার পরিচিত কিছু মানুষ যারা ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন, এখন প্রকাশ্যে বলছেন তারা আর তাকে সমর্থন করছেন না। তার বন্ধু এমিলি ভিয়ালপান্দো বলেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে তরুণদের ওপর অর্থনীতির প্রভাব আরও স্পষ্ট হচ্ছে। নারী অধিকার ও অভিবাসন নীতিও তাদের উদ্বেগের বড় কারণ।
তবে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক বাস্তবতা এখনো ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের পক্ষেই শক্তিশালী। কিংসপোর্টের আশপাশের এলাকায় অনেক নির্বাচনী আসনে শুধু রিপাবলিকান প্রার্থী ছিলেন, এমনকি কয়েকটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক ভোটারের কাছে গর্ভপাতবিরোধী অবস্থান, সমাজতন্ত্রের বিরোধিতা এবং তথাকথিত জাগরণবাদবিরোধী অবস্থান এখনো দলীয় আনুগত্যের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ট্রাম্পের প্রতি ব্যক্তিগত অসন্তোষ থাকলেও তারা দল পরিবর্তনের কথা ভাবছেন না।
সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতি ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় আঘাত করলেও তার সবচেয়ে দৃঢ় রিপাবলিকান ভিত্তি এখনো যথেষ্ট শক্ত রয়েছে। তবে তরুণ ভোটার ও মধ্যপন্থীদের মধ্যে যে বিচ্ছিন্নতা তৈরি হচ্ছে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সেটিই রিপাবলিকানদের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: বিবিসি
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তি নিহত
'৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে'
ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার ইরানি হুমকি নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দাদের সংশয়