হরমুজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনার কেন্দ্রে সমঝোতার পঞ্চম ধারা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম ধারা ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল, এর নিরাপত্তা এবং প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন ব্যাখ্যাই সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে।

দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। বিশেষ করে পঞ্চম ধারার ব্যাখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আরও প্রকট হয়েছে। এই ধারায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কোনো ধরনের ফি ছাড়া জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।

সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান ৬০ দিনের জন্য পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। পাশাপাশি ৩০ দিনের মধ্যে প্রণালিতে থাকা সামরিক ও কারিগরি প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং মাইনমুক্ত করার বিষয়েও অঙ্গীকার করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির প্রশাসনিক কাঠামো ও সামুদ্রিক সেবার বিষয়ে ওমান এবং উপসাগরীয় উপকূলবর্তী দেশগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন ও উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌম অধিকারের ভিত্তিতে আলোচনা করার কথাও এতে উল্লেখ রয়েছে।

তবে এই ধারার ব্যাখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান স্পষ্টভাবে ভিন্ন। ইরানের দাবি, সমঝোতা অনুযায়ী আগামী ৩০ দিন হরমুজ প্রণালির তদারকি ও ব্যবস্থাপনার পূর্ণ দায়িত্ব তাদের হাতেই থাকবে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, অন্য কোনো পক্ষের একতরফা হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করবে এবং প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়াও বিলম্বিত করবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলো হরমুজ প্রণালিকে আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে বিবেচনা করছে। তাদের অবস্থান, এই জলপথে সব দেশের জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে এবং বিকল্প নৌপথ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কোনো বাধা দেওয়া উচিত নয়।

তেহরানভিত্তিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ভবিষ্যতে সম্ভাব্য নতুন মার্কিন হামলা ঠেকানোর কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে হরমুজ প্রণালিকে ব্যবহার করতে চাইছে। অন্যদিকে পশ্চিমা প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান প্রণালিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, আর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা জোর দিচ্ছে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতার ওপর।

এই মতবিরোধের মধ্যেই সাম্প্রতিক কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং তার জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। যদিও বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে তুলে ধরলেও এখনো পূর্ণমাত্রার সংঘাতে না গিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। সূত্র: আলজাজিরা