হরমুজগান প্রদেশের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) এ তথ্য জানানো হয়েছে। আইআরজিসি বলেছে, দেশটির নতুন ও অত্যাধুনিক একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনটি শনাক্ত, প্রতিহত ও ভূপাতিত করা হয়।
হরমুজগান প্রদেশটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর পাশে অবস্থিত এবং প্রদেশটির মধ্যে বন্দর আব্বাসও রয়েছে। ফলে সেখানে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সামরিক উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, ড্রোনটি ইরানের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের আওতায় থাকা নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে মার্কিন পক্ষ এখন পর্যন্ত এই ড্রোন হারানোর দাবি নিশ্চিত করেনি। তাই ঘটনাটির স্বাধীন যাচাইও এখনো সম্ভব হয়নি।
এর এক দিন আগে ওয়াশিংটন পোস্টের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে। এই সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট রিপার বহরের প্রায় এক-চতুর্থাংশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ড্রোনগুলোর সম্ভাব্য মোট মূল্য ১৩০ কোটি ডলারের বেশি হতে পারে।
এমকিউ-৯ রিপার যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং নির্ভুল হামলার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। ফলে বিপুলসংখ্যক ড্রোন হারানোর দাবি ওয়াশিংটনের জন্য সামরিক সক্ষমতা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই সর্বশেষ এই ঘটনা ঘটল। প্রণালীটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় সেখানে সামরিক সংঘাত বাড়লে আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। সূত্র: ডন
যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনেই হরমুজে নৌ চলাচল ক্ষতিগ্রস্ত: রাশিয়া
'বিদেশি প্রভাবে অস্থিতিশীলতাকারী দেশগুলোকে কঠোর জবাব দেবে ইরান'
'ট্রাম্পের শুল্ক এড়াতে চীনকে সহায়তা করেছে ৪০টির বেশি দেশ'