পাল্টাপাল্টি হামলার পর ফের আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে কয়েক দিনের তীব্র সামরিক উত্তেজনার পর অবশেষে পুনরায় আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। 

ওয়াশিংটন সময় অনুযায়ী গতকাল রোববার রাতে একজন মার্কিন কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ (Axios)-কে নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী মঙ্গলবার কাতারের দোহায় দুই দেশের মধ্যে এই কারিগরি বা প্রযুক্তিগত আলোচনা (Technical talks) শুরু হবে।

বিগত কয়েক দিন ধরে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং এর নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দফায় দফায় সামরিক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। মূলত এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলসীমা দিয়ে কীভাবে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যাতায়াত করবে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যকার বিরোধের জেরে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইরানি কর্মকর্তাদের তীব্র সমালোচনা করে আসছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে কোনো ধরনের আর্থিক, শারীরিক বা অন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়া মুক্তভাবে চলাচল করতে না দেয়, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী আবারও দেশটিতে বিমান হামলা শুরু করবে।

অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (MoU) লঙ্ঘনের পাল্টা অভিযোগ আনা হয়েছে।

তেহরানের দাবি, জলপথের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে ইরানের স্বাভাবিক সক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া ভবিষ্যতে এই আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলো থেকে টোল বা শুল্ক আদায়ের যে আইনি অধিকার ইরানের রয়েছে, মার্কিন প্রশাসন সেখানেও বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে নতুন করে আলোচনা শুরুর স্বার্থে আপাতত দুই পক্ষেরই সামরিক হামলা-পাল্টা হামলা বন্ধ থাকবে। দোহায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নতুন দফার কারিগরি আলোচনাটি মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক শিপিং ট্রাফিকের যাতায়াত ব্যবস্থার ওপর বিশেষভাবে ফোকাস করবে।

এই আলোচনা কত দিন স্থায়ী হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু জানা না গেলেও, বিশ্লেষকরা মনে করছেন— এর মাধ্যমে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে নির্ধারিত ৬০ দিনের যে আলোচনার মেয়াদ ছিল, তা আপাতত সচল থাকছে। সূত্র: আল জাজিরা

YA
আরও পড়ুন