তিন বছর আগের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে শ্রীলঙ্কা। এ সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশটিকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের তালিকা থেকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
বিশ্বব্যাংকের গত ১ জুলাই প্রকাশিত সর্বশেষ আয়ভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসে এই উন্নীতকরণের ঘোষণা দেওয়া হয়। সংস্থাটির মতে, ২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কার প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির আয়ভিত্তিক পুনঃশ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। শিল্প খাতের পুনরুদ্ধার, পর্যটনের প্রসার এবং আর্থিক সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি এ সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্বব্যাংক শ্রীলঙ্কার এই অগ্রগতিকে ‘পুনরুদ্ধারের এক গল্প’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, ২০২২ সালে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে দেশটি প্রায় ধসে পড়ার মুখে ছিল। তবে অর্থনৈতিক সংস্কার, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, পর্যটন খাতের পুনরুজ্জীবন এবং আর্থিক সেবার সম্প্রসারণের ফলে মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে দেশটি প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে। যদিও উচ্চ মধ্যম আয়ের সীমা দেশটি অল্প ব্যবধানে অতিক্রম করেছে, তবু এই অর্জন অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতার গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।
বিশ্বব্যাংক দেশগুলোকে চারটি আয়ভিত্তিক শ্রেণিতে ভাগ করে উচ্চ আয়, উচ্চ মধ্যম আয়, নিম্ন মধ্যম আয় ও নিম্ন আয়। শ্রীলঙ্কার নতুন মর্যাদা সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, এবারের শ্রেণিবিন্যাস আগের ক্যালেন্ডার বছরের মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় (জিএনআই) অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ২১৮টি দেশ ও অর্থনীতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং এই তালিকা ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
২০১৯ সালের ইস্টার সানডে হামলা, করোনা মহামারি এবং পরবর্তী সময়ে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য সংকটের কারণে ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কা সার্বভৌম ঋণ পরিশোধে খেলাপি (সোভরেন ডিফল্ট) হয়। এতে দেশটির অর্থনীতি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় মন্দার মুখে পড়ে।
বিশ্বব্যাংকের মতে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহায়তায় বাস্তবায়িত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা কর্মসূচি, রাজস্ব ও মুদ্রানীতির সংস্কার, বৈদেশিক ঋণ পুনর্গঠন, পর্যটন খাতের পুনরুজ্জীবন, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক খাতের উন্নতিই শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রধান চালিকাশক্তি।