দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার শ্রীলঙ্কার সাবেক নৌপ্রধান

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:০৫ পিএম

শ্রীলঙ্কার সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ফ্লিট অ্যাডমিরাল ওয়াসান্থা কারান্নাগোদাকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির ঘুষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন। শুক্রবার (৩ জুলাই) তাকে কমিশনের হেফাজতে নেওয়া হয়। অভিযোগ, সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের ছেলে যোশিথা রাজাপাকসেকে যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করেই নৌবাহিনীতে নিয়োগ এবং বিদেশে প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দিতে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিলেন।

তদন্তকারীদের দাবি, ২০০৬ সালে যোশিথা রাজাপাকসের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছিল এবং সেই পুরো প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তৎকালীন নৌপ্রধান কারান্নাগোদার। এ অভিযোগের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দায়ের করা হয় এবং পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শ্রীলঙ্কার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে, ২০০৯ সালে নৌবাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন কারান্নাগোদা। পরে ২০১৯ সালে তাকে দেশের সর্বোচ্চ নৌসামরিক পদ ফ্লিট অ্যাডমিরালে উন্নীত করা হয়। বর্তমানে তিনি অবসরপ্রাপ্ত।

ঘুষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের ভাষ্য, যোশিথা রাজাপাকসের নিয়োগ ও বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন কারান্নাগোদা। সেই অভিযোগেই তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

দুর্নীতির এই অভিযোগের বাইরে কারান্নাগোদার বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ২০২৫ সালের মার্চে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাজ্য। এছাড়া ২০০৮ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ১১ তরুণকে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্রের মামলাতেও তার নাম রয়েছে।

গোটাবায়া রাজাপাকসে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ২০২১ সালে ওই হত্যা-সংক্রান্ত অভিযোগ প্রত্যাহার করা হলেও, ২০২৪ সালে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সরকার মামলাটি পুনরায় সক্রিয় করে। এরপর থেকেই রাজাপাকসে পরিবার এবং তাদের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে স্থগিত থাকা একাধিক তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম আবারও গতি পেতে শুরু করে।

অন্যদিকে, যোশিথা রাজাপাকসেও সম্প্রতি পৃথক একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে পরে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। সেই মামলায় অভিযোগ, ব্রিটেনের ডার্টমাউথ নৌ কলেজে প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি অর্থের অপব্যবহার করা হয়েছিল।

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট দিসানায়েক প্রশাসন রাজাপাকসে আমলের নানা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও অভিযোগ নতুন করে তদন্ত করছে। এর অংশ হিসেবেই সাবেক নৌপ্রধানের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

AS
আরও পড়ুন