বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ইরানের ওপর চালানো মার্কিন বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র পাল্টা আঘাত হেনেছে তেহরান। উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্তত ছয়টি আরব দেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে এই ধারাবাহিক হামলা চালানো হয়।
ইরানি সামরিক বাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমন্বিত সামরিক অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে এখন চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) স্থানীয় সময় রাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। ফাইটার জেট, ড্রোন ও যুদ্ধজাহাজ থেকে ছোঁড়া মার্কিন নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রে ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রসদ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস ও চাবাহারসহ বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন হামলায় অন্তত ৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ বন্দর-ই খামির সড়ক সেতু ধ্বংস হওয়ায় বেশ কয়েকজন নিহত হন এবং বন্দর আব্বাসে প্রাণ হারান এক নারী।
মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে ইরানের আইআরজিসি। তাদের দাবি, এটি মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চালানো তেহরানের ১৩তম দফার সফল প্রতিশোধমূলক অপারেশন।
ইরানি হামলার পর বাহরাইনে উচ্চ সতর্কতা জারি করে বিমান হামলার সাইরেন বাজানো হয়। অন্যদিকে কাতারের আকাশে ধেয়ে আসা ইরানি মিসাইল প্রতিহত করার সময় ধ্বংসাবশেষের আঘাতে দোহারে এক শিশু আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ওমান সীমান্তে আইআরজিসি মার্কিন বিমান নিয়ন্ত্রণ রাডার ও কৌশলগত সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ধ্বংস করার দাবি করেছে। পাশাপাশি ওমান উপকূলে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস।
কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও সফল হামলার দাবি করেছে ইরানের বার্তা সংস্থা মেহর। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রগুদাম, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার ও দুটি হিমার্স (HIMARS) রকেট সিস্টেম লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
জর্ডান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রকে মাঝআকাশেই সফলভাবে ভূপাতিত করেছে দেশের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। এই ঘটনায় জর্ডানের অভ্যন্তরে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এছাড়া সিরিয়ার আল-তানফ সামরিক ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের কমান্ড সেন্টারেও ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি। তেহরানের দাবি, ইরানশাহরে তাদের সেনা হত্যার প্রতিশোধ নিতেই সিরিয়ার এই মার্কিন ঘাঁটিকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সংবাদের সূত্র (Source): ফার্স নিউজ এজেন্সি, তাসনিম নিউজ, মেহর নিউজ এজেন্সী এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি।