শুল্ক বাড়ানোর হুঁশিয়ারি

দাবানলের ধোঁয়ার জন্য কানাডাকে দায়ী করলেন ট্রাম্প

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৩ এএম

কানাডার ভয়াবহ দাবানলের বিষাক্ত ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পরিবেশগত দূষণ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের যে বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, তা কানাডিয়ান পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপ করে উসুল করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি কানাডা সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওটাওয়া তাদের দেশের বনভূমি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করায় প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রকে এমন অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা বাতাসের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ঘটনাকে কানাডার ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অপচয় হচ্ছে, যার দায়ভার কানাডার পণ্যের ওপর চলমান শুল্কের সাথে যোগ করা উচিত।

কানাডার শত শত সক্রিয় দাবানল থেকে সৃষ্ট ঘন ধোঁয়া গত বুধ ও বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আকাশ গ্রাস করে নেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করে সবাইকে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

এই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে দ্রুতই আলোচনায় বসবেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। অগ্রহণযোগ্য এই পরিবেশ দূষণ রোধে ওটাওয়া কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা সরাসরি জানতে চাইবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন রাজনৈতিক অভিযোগের সাথে একেবারেই একমত নন পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে বনাঞ্চল অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে উঠছে, যা দাবানলের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার থম্পসন রিভার্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মাইক ফ্ল্যানিগান জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই আবহাওয়া দিনে দিনে গরম ও শুষ্ক হয়ে উঠছে। আর এই বৈরী আবহাওয়াই মূলত দাবানল ছড়িয়ে পড়ার মূল কারণ, কোনো দেশের অবহেলা নয়।

সরকারি হিসাবমতে, চলতি বছর কানাডার অন্টারিও প্রদেশে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার একর বনভূমি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাজার হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হলেও, কলিন্স ফার্স্ট নেশন সম্প্রদায়ের পুরো বসতিটি আগুনে ধ্বংস হয়ে গেছে।

অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে ১১টি নতুন অগ্নিনির্বাপক বিমান কেনার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে শুধু কানাডাই নয়, চলতি বছর খোদ যুক্তরাষ্ট্রেও দাবানলে প্রায় ৩৭ লাখ একর ভূমি পুড়েছে, যা গত এক দশকের গড় রেকর্ডের চেয়ে অনেক বেশি।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

HN
আরও পড়ুন