ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘নউল’, যেখানে আঘাত হানবে 

আকাশ ও উপকূলীয় অঞ্চলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে এগিয়ে আসছে শক্তিশালী সামুদ্রিক ঝড় বা টাইফুন ‘নউল’। ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য তণ্ডবলীলা থেকে প্রাণহানি বাঁচাতে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংডং প্রদেশ থেকে ইতোমধ্যেই ২০ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের তথ্যমতে, শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববারের মধ্যে এটি হংকং থেকে গুয়াংডং প্রদেশের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকায় প্রচণ্ড শক্তিতে আঘাত হানতে পারে। 

উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আবহাওয়া বিভাগ ইতিমধ্যে তাদের চার স্তর বিশিষ্ট সতর্কতার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ‘কমলা সতর্কতা’ বহাল রেখেছে।

ঝড়ের আগাম প্রভাব হিসেবে গুয়াংডং ও পার্শ্ববর্তী ফুজিয়ান প্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মুষলধারে বৃষ্টি এবং তীব্র ঝোড়ো বাতাসের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে সাগরে থাকা সব মাছ ধরার ট্রলারকে দ্রুততম সময়ে নিকটস্থ বন্দরে ফিরে আসার নির্দেশ দেয় প্রশাসন।

টাইফুন নউলের কারণে ট্রেন চলাচলেও ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিডিউল। গুয়াংডং প্রদেশের সার্বিক ট্রেন চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে এবং বেশ কিছু এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

চলতি মাসেই চীনের দক্ষিণাঞ্চল চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে। এর আগে টাইফুন ‘মায়সাক’-এর প্রভাবে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ঝড়ে হুবেই এবং গুয়াংশি অঞ্চলে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও অনিয়ন্ত্রিত কার্বন নিঃসরণের কারণে বিশ্বে এমন চরম আবহাওয়ার ঘন ঘন পুনরাবৃত্তি ঘটছে। তবে চীন এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০৬০ সালের মধ্যে নিজেদের কার্বন-নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

তথ্যসূত্র (Source): আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি (AFP) এবং চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি (CCTV)।