চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় হাইনান প্রদেশের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের সময়সূচি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্কুলটির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন সন্ধ্যায় চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের প্রধান সংবাদ অনুষ্ঠান দেখার জন্য নির্ধারিত সময় রাখা হয়েছে।
সমালোচকদের দাবি, এর মাধ্যমে নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক বার্তার সঙ্গেও যুক্ত করা হচ্ছে। দ্য এপক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এএনআই-এর প্রতিবেদন জানায়, চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে হাইকৌ নম্বর ৪ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উচ্চ মাধ্যমিক শাখার দৈনিক সময়সূচি দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ওই সময়সূচিতে সন্ধ্যার পড়ার সময়ের মধ্যে ৩০ মিনিট রাষ্ট্রীয় সংবাদ অনুষ্ঠান দেখার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের দিনের কার্যক্রম শুরু হয় ভোর ৬টা ২০ মিনিটে। এরপর তাদের মোট ৯টি ক্লাস করতে হয়। ক্লাস ও অন্যান্য কার্যক্রম শেষে তারা আবাসিক ভবনে ফিরে যায়। রাতে ১১টায় তাদের ঘুমানোর জন্য আলো বন্ধ করার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
সময়সূচি অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সরকারি সংবাদ অনুষ্ঠান দেখতে হয়। এরপর তারা ৭০ মিনিট করে দুটি সন্ধ্যার পড়ার সেশনে অংশ নেয়।
স্কুলটির এমন সময়সূচি নিয়ে চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু ব্যবহারকারী সময়সূচিটিকে অত্যন্ত কঠোর বলে মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ এর সঙ্গে কারাগারের সময়সূচির তুলনাও করেছেন।
আরও কয়েকজন প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অংশ হিসেবে কেন রাষ্ট্রীয় সংবাদ অনুষ্ঠান দেখতে বাধ্য করা হবে। তাদের অভিযোগ, এই ধরনের অনুষ্ঠানে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির রাজনৈতিক বার্তা তুলে ধরা হয়। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়াশোনার সময়কে রাজনৈতিক বিষয়বস্তু দেখার জন্য ব্যবহার করা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এই ঘটনা চীনের শিক্ষাব্যবস্থায় রাজনৈতিক শিক্ষার ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। দ্য এপক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিয়াংসু প্রদেশের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তার সন্তানের শিক্ষাজীবনে রাজনৈতিক বিষয় আগে থেকেই যুক্ত রয়েছে। ওই ব্যক্তি প্রতিদিনের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠান ও জাতীয় সংগীত গাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তার দাবি, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়েও চীনের কমিউনিস্ট পার্টিকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা হয়।
ওই বাসিন্দা আরও জানান, তার চার বছর বয়সী ছেলে সম্প্রতি কিন্ডারগার্টেনে কথিত ‘লাল গান’ শেখা শুরু করেছে। এসব গানের অনেকগুলোতেই চীনের কমিউনিস্ট বিপ্লব ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক বিষয় উঠে আসে। এ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, শিশুদের খুব অল্প বয়স থেকেই এ ধরনের গান ও কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে তাদের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ধারণার দিকে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না।
হাইনানে থাকা এক শিক্ষাবিদও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার মতে, শুধু শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রীয় সংবাদ দেখানো হচ্ছে কি না এটাই মূল বিষয় নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য জানার সুযোগ পাচ্ছে কি না।
তার মতে, শিক্ষার্থীরা যদি বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য পাওয়ার সুযোগ না পায়, তাহলে কোনো বিষয় সম্পর্কে তাদের নিজস্বভাবে চিন্তা ও মত গড়ে তোলার সুযোগ সীমিত হতে পারে। চীনের স্কুলগুলোতে রাষ্ট্রীয় সংবাদ, জাতীয় সংগীত, পতাকা উত্তোলন এবং কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাস ও আদর্শকে ঘিরে বিভিন্ন কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষাব্যবস্থার অংশ।
তবে হাইনানের এই স্কুলের সময়সূচি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন পড়াশোনার সঙ্গে রাজনৈতিক বিষয় যুক্ত করার মাত্রা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ইসরায়েলি অবৈধ বসতির সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করছে যুক্তরাজ্য
দেশে সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ
হামাস যোদ্ধাদের বিচার করতে ভয় পাচ্ছেন ইসরায়েলি বিচারকরা!