কেন হরমুজ প্রণালির একক নিয়ন্ত্রণ চায় ইরান?

হরমুজ প্রণালির সার্বিক নিরাপত্তা ও যৌথ ব্যবস্থাপনায় ওমানের দেওয়া ৫০-৫০ অংশীদারত্বের প্রস্তাব সরাসরি বাতিল করেছে ইরান। পরবর্তীতে তেহরান নিজেদের একটি বিকল্প প্রস্তাব সামনে আনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রণালিতে সাময়িক অর্থনৈতিক বাণিজ্যের চেয়ে ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক প্রাধান্য ধরে রাখাই ইরানের প্রধান উদ্দেশ্য।

আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’ (আইআইএসএস)-এর গবেষক সাশা ব্রুকম্যান আল জাজিরাকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন।

তিনি জানান, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার চেয়ে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক ও নিরাপত্তা প্রভাব ধরে রাখাই তেহরানের মূল লক্ষ্য। এ কারণেই ওমানের যৌথ পরিকল্পনা মেনে নেয়নি তারা।

প্রাথমিকভাবে নৌপথটি অতিক্রমকারী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে টোল আদায়ের দাবি জানিয়েছিল তেহরান। পরবর্তীতে সেই অবস্থান কিছুটা বদলে ‘সেবা ফি’ এবং বর্তমানে তা ‘স্বেচ্ছামূলক ফি’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

কৌশলগত পরিভাষা পাল্টালেও ইরানের মূল উদ্দেশ্য অপরিবর্তিত রয়েছে। ওমানের প্রস্তাবে রাজি হলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথটির একটি অংশ ইরানের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেত।

যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলেন মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পৃথক দ্বিপাক্ষিক সমঝোতায় পৌঁছানোই এখন তেহরানের মূল নীতি। এর মাধ্যমে অঞ্চলটিতে ধাপে ধাপে নিজেদের ভিত্তি শক্তিশালী করতে চায় তারা।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহন পথের ভৌগোলিক নিয়ন্ত্রণ পেলে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামো এবং বৈশ্বিক তেলের বাজারে অভূতপূর্ব কৌশলগত সুবিধা পাবে ইরান।

সূত্র: আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইআইএসএস) ও আল জাজিরা।