গাজার গণহত্যায় ইসরায়েলকে অস্ত্র দিচ্ছে ভারত : অ্যামনেস্টি

গাজায় চলমান সামরিক অভিযানে ব্যবহারের জন্য ইসরায়েলে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে ভারত। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভারত থেকে ইসরায়েলে পাঠানো প্রায় ২,৫৯৬টি সামরিক চালান বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব চালানের মাধ্যমে ভারী অস্ত্র, গোলাবারুদ ও ড্রোন তৈরির যন্ত্রাংশ পাঠানো হয়।

অ্যামনেস্টির তথ্যমতে, ভারতীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইসরায়েলের সামরিক সরবরাহকারীদের কাছে ৩ লাখ ৯০ হাজারেরও বেশি ছোট অস্ত্রের যন্ত্রাংশ পাঠিয়েছে। এর পাশাপাশি প্রায় ৫ লাখ ৬৪ হাজার বিস্ফোরক উপাদান ও সামরিক যানবাহনের যন্ত্রাংশ রপ্তানি করা হয়।

বাণিজ্যিক চালানের তথ্য বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে যে, এসব পণ্য সরাসরি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর কাছে পৌঁছেছে। পরবর্তীতে যা গাজায় পরিচালিত সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা হয়।

এর আগে কাস্টমসের ৯১টি রপ্তানি নথির বরাতে আল জাজিরাও একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করেছিল। তারা জানায়, ২০২৪ সালে ইসরায়েলের রাফায়েল এডভান্স ডিফেন্স সিস্টেমস সহ বেশ কিছু সংস্থায় বোমা ও গ্রেনেডের যন্ত্রাংশ রপ্তানি করে ভারত।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড এ বিষয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, গাজার ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে জেনেও ভারত ইসরায়েলের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতকে ধারাবাহিক সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)-এর তথ্যানুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানির ২৯ শতাংশের ক্রেতা ছিল ভারত। যা দেশটিকে ইসরায়েলের অন্যতম শীর্ষ প্রতিরক্ষা অংশীদারে পরিণত করেছে।

এছাড়া ২০২৫ সালের নভেম্বরে ভারত ও ইসরায়েল এক নতুন দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দুই দেশের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদারের ঘোষণা দেন।

তথ্যসূত্র (Sources):
মূল প্রতিবেদন: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল (Amnesty International Report)

সহায়ক তথ্যসূত্র: স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI) ও আল জাজিরা (Al Jazeera Documents)