গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অভিযান নিয়ে নির্মিত ‘নাজা’ তথ্যচিত্রের নির্মাতাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির। তথ্যচিত্রটি ‘রক্তের অপবাদ’, বাস্তবতার ইচ্ছাকৃত বিকৃতি এবং ইসরায়েলি সেনা ও কমান্ডারদের বিরুদ্ধে গুরুতর মিথ্যা অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
জামির সামরিক অ্যাডভোকেট জেনারেলকে তথ্যচিত্রটি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি ব্যবস্থা পর্যালোচনা ও এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সমালোচনামূলক কোনো চলচ্চিত্র নয় এবং সত্য উদঘাটনের চেষ্টাও নয়। বরং এতে সেনাদের বিরুদ্ধে গুরুতর ও মিথ্যা অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তথ্যচিত্রটি নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাব দিতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি দল গঠন করা হবে। ওই দল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও এর সদস্যদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ পর্যালোচনা করে সেগুলোর জবাব তৈরিতে কাজ করবে। জামির একই সঙ্গে দাবি করেছেন, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আন্তর্জাতিক আইন মেনেই কার্যক্রম পরিচালনা করে।
ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল সোর নির্মিত তথ্যচিত্রটির নাম ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীতে ‘পার্শ্ববর্তী ক্ষয়ক্ষতি’ বোঝাতে ব্যবহৃত সংক্ষিপ্ত নাম থেকে নেওয়া হয়েছে। শনিবার ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে এটি বিশেষ জুরি পুরস্কার পেয়েছে। তথ্যচিত্রটিতে ২৪ জন ইসরায়েলি সেনা ও কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার রয়েছে। নির্মাতাদের দাবি, সাক্ষাৎকারদাতারা গাজা যুদ্ধে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামরিক ব্যবস্থা পরিচালনা ও পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তথ্যচিত্রটিতে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অভিযান কীভাবে ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানির ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত ভূমিকা রেখেছে, তা তুলে ধরা হয়েছে বলে নির্মাতারা জানিয়েছেন। তবে জামিরসহ ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। জামির বলেন, এই তথ্যচিত্রের মাধ্যমে শুধু সামরিক বাহিনী নয়, ইসরায়েল রাষ্ট্রকেই আক্রমণ করা হয়েছে।
এদিকে তথ্যচিত্রটি পুরোপুরি প্রকাশের আগেই এর প্রচারণামূলক অংশ ঘিরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি দেফরিন। তিনি বলেন, প্রচারণামূলক অংশে সামরিক বাহিনী ও এর সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ও মিথ্যা অভিযোগ রয়েছে। তবে পুরো তথ্যচিত্র না দেখে এর প্রতিটি অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য না করতে সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
দেফরিন বলেন, তথ্যচিত্রটি নিয়ে জনপরিসরে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা মিথ্যা উপস্থাপনা বা ভিত্তিহীন অপবাদের ওপর নয়, বরং তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলি সেনা, কমান্ডার ও সদস্যদের প্রতি সামরিক নেতৃত্বের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেন। সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট
ইরান যুদ্ধে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন যুগ
এক সপ্তাহের মধ্যে ইরানে আরও এক সুন্নি আলেম নিহত
কাতারে নিখোঁজ তিন ইরানি পাইলটের তথ্য চায় রেড ক্রিসেন্ট