ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও হুতি বিদ্রোহীদের তীব্র সংঘর্ষে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য।
গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া হুতিদের হঠাৎ হামলায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারের অন্তত ৩০ জন সেনা নিহত হয়েছেন।
মূলত দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় কৌশলগত এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে এ তৎপরতা চালাচ্ছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি।
হুতিদের সামরিক বিভাগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তারা একাধিক অঞ্চলে একযোগে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে হামলা শুরু করেছে।
তাদের মূল লক্ষ্য ছিল মারিব এবং সৌদি সীমান্তঘেঁষা ইয়েমেনের সর্ববৃহৎ প্রদেশ হাদরামাউত। এই দুই এলাকাতেই সেনাসদস্যদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বিদ্রোহীদের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে সৌদি আরব সীমান্তে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম জমা করছে।
তবে এ দাবির পক্ষে কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ এখনো উপস্থাপন করতে পারেনি হুতিরা। অন্যদিকে সৌদি সমর্থিত অবরোধের চাপ সরাতেই হুতিদের এ আক্রমণাত্মক অবস্থান বলে মনে করা হচ্ছে।
২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখলের পর থেকে ইয়েমেনে সশস্ত্র সংঘাতের সূচনা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২০১৫ সালে সৌদি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জোট ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ করে।
দীর্ঘ এ গৃহযুদ্ধের ফলে দেশটি আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহতম মানবিক সংকট ও দুর্ভিক্ষের মুখে পড়ে।
নব্বইয়ের দশকে সাধারণ এক আঞ্চলিক গ্রুপ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও ইরান থেকে অস্ত্র ও অর্থনৈতিক সহায়তা পেয়ে হুতিরা আজ অত্যন্ত শক্তিশালী সামরিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও কার্যকর মিত্রদের অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাদের।
২০২২ সালে সৌদি জোটের সাথে হুতিদের ভঙ্গুর একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। তবে হুতি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে রিয়াদের দেওয়া আকাশ ও অর্থনৈতিক অবরোধ বহাল থাকায় তা নিয়ে অসন্তোষ ছিলই।
সম্প্রতি সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ায় সৌদি ভূখণ্ড লক্ষ্য করেও হুতিদের সরাসরি হামলা চালাতে দেখা গেছে, যা দীর্ঘদিনের ভঙ্গুর শান্তির সমাপ্তি ঘটাল।
সূত্র: সিএনএন / রয়টার্স