হুথিদের মোকাবিলায় সৌদিকে সামরিক সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্য

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২১ পিএম

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সীমিত সামরিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। এর অংশ হিসেবে সৌদি যুদ্ধবিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের জন্য একটি ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (RAF) ভয়েজার ট্যাংকার বিমান মোতায়েন করা হবে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের ঘোষণার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লুক পোলার্ড বলেছেন, এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে। তিনি স্কাই নিউজকে বলেন, ‘বিপজ্জনক সময়ে ভালো বন্ধুরা একে অপরের পাশে দাঁড়ায়।’ একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্রিটিশ সহায়তা আন্তর্জাতিক আইন মেনেই দেওয়া হবে।

ব্রিটিশ সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, RAF Voyager বিমান সৌদি যুদ্ধবিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহ করবে। এর ফলে সৌদি যুদ্ধবিমান দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করতে পারবে এবং দেশটির বিরুদ্ধে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় প্রতিরক্ষামূলক অভিযান চালাতে সক্ষম হবে।

তবে যুক্তরাজ্য স্পষ্ট করেছে, এই মিশন হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের আক্রমণাত্মক বিমান হামলায় সহায়তা করার জন্য নয়। ব্রিটিশ বিমানটি মূলত সৌদি ভূখণ্ডকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষায় ব্যবহৃত যুদ্ধবিমানকে সহায়তা করবে। মিশনটি প্রাথমিকভাবে কয়েক সপ্তাহের জন্য চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বিমানটি সাইপ্রাসের RAF Akrotiri ঘাঁটি থেকে পরিচালিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নতুন সহায়তার পাশাপাশি সৌদি আরবে ব্রিটেনের Sky Sabre আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আগে থেকেই মোতায়েন রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্তের পেছনে শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তা নয়, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ার পর বাব আল-মান্দাবও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হিসেবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী পোলার্ড বলেছেন, লোহিত সাগরে আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে জ্বালানি সরবরাহ ও দাম, দুই ক্ষেত্রেই নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবকে প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেওয়ার একটি উদ্দেশ্য হলো পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকানো এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলো সচল রাখতে সহায়তা করা।

ইয়েমেনের হুথিরা ইরানের সমর্থনপুষ্ট বলে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে। সাম্প্রতিক সংঘাতে সৌদি আরবের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর রিয়াদ পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছে।

এর আগে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসা নিয়ে উদ্বেগের কথাও উঠে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে রিয়াদ যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে বলে এপি জানিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের নতুন সিদ্ধান্ত সরাসরি হুথিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলায় অংশগ্রহণের ঘোষণা নয়। বরং সৌদি যুদ্ধবিমানকে প্রতিরক্ষামূলক অভিযানে দীর্ঘ সময় আকাশে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা দেওয়াই এই মিশনের ঘোষিত উদ্দেশ্য। ফলে এই পদক্ষেপে যুক্তরাজ্যের সরাসরি যুদ্ধ-অংশগ্রহণের পরিধি সীমিত রাখার চেষ্টা স্পষ্ট। 

এএস
আরও পড়ুন