গোলান মালভূমিকে 'ইসরায়েলি ভূখণ্ড' স্বীকৃতি দিলো কলম্বিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে দখলীকৃত সিরিয়ার গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের দাবিকে স্বীকৃতি দিয়েছে কলম্বিয়া।

দেশটিতে ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট অ্যাবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হলো।

সোমবার (১০ আগস্ট) কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করে। ১৯৮১ সালে ইসরায়েল কর্তৃক এই ভূখণ্ড দখলের ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র ও কলম্বিয়া ছাড়া বিশ্বের আর কোনো দেশ এখন পর্যন্ত স্বীকৃতি দেয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, কলম্বিয়া সরকার এই ভূখণ্ডের ওপর ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব এবং বাহ্যিক হুমকি থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য সেই রাষ্ট্রের অধিকারকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষার একটি অপরিহার্য উপাদান।

কলম্বিয়ার এই সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়লাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদোন সার। তিনি জানান, দে লা এসপ্রিয়লার শপথ গ্রহণের ঠিক আগের দিন কলম্বিয়ার বারানকিয়া শহরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তাঁরা এ বিষয়ে একমত হন।

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের সময় সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান মালভূমির অধিকাংশ এলাকা দখল করে নেয় ইসরায়েল। পরে ১৯৮১ সালে তারা এলাকাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বেআইনি হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম দেশ হিসেবে ইসরায়েলের এই দাবিকে স্বীকৃতি দেন।

জাতিসংঘ এখন পর্যন্ত অঞ্চলটিকে সিরিয়ার অংশ হিসেবেই গণ্য করে। গত মাসেও জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেন।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর যখন ইসরায়েল দেশটির অভ্যন্তরে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই কলম্বিয়া এ পদক্ষেপ নিল। ইতিমধ্যে জাতিসংঘ পরিচালিত বাফার জোনে সেনা পাঠিয়ে দামেস্কের কাছাকাছি কৌশলগত অবস্থানগুলো দখল করেছে ইসরায়েল।

মার্কিন সমর্থিত ও ধনকুবের প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েলা তাঁর নির্বাচনী প্রচারণাতেই যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইসরায়েলের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাঁর পূর্বসূরি গুস্তাভো পেত্রো গাজায় ইসরায়েলের হামলার কঠোর সমালোচনা করে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেছিলেন। দে লা এসপ্রিয়েলা দায়িত্ব নিয়েই পেত্রোর সিদ্ধান্ত বদলে দিয়ে ইসরায়েলের সাথে বোগোতার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠন করছেন।

সূত্র: আল-জাজিরা