যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি জনসমর্থন কমে যাওয়ার পেছনে মানুষের ‘বাইবেল সম্পর্কে অজ্ঞতা’ বা ‘বাইবেলিক্যাল ইলিটারেসি’ দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি।
তাঁর দাবি, অপতথ্য, বিদেশি প্রচারণা এবং ধর্মবিশ্বাসীদের প্রতি বিরূপ মনোভাবের সঙ্গে বাইবেল সম্পর্কে অজ্ঞতা যুক্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব বাড়াচ্ছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে হাকাবি বলেন, এমন অনেক মানুষ রয়েছেন যারা বিশ্বাস করেন না যে ঈশ্বর আছেন এবং মানুষের জীবনের জন্য তাঁর নির্ধারিত নিয়ম রয়েছে। এসব বিষয়, অপতথ্য ও বিদেশি প্রচারণা একসঙ্গে কাজ করছে বলে তিনি মনে করেন।
হাকাবির ভাষায়, এসব বিষয় যোগ করলে শেষ পর্যন্ত মানুষ ইসরায়েলের ওপর ক্ষুব্ধ হয় এবং ‘সবকিছুর জন্য ইসরায়েলকে দায়ী’ করতে শুরু করে।
গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এবং ইসরায়েলকে ‘বর্ণবাদী রাষ্ট্র’ বা অ্যাপার্টহাইড রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যায়িত করার দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছেন হাকাবি।
তিনি বলেন, এসব অভিযোগ সত্য নয়। মার্কিন নাগরিকরা যদি ‘সত্যের দিকে তাকান’, তাহলে ইসরায়েলের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি আরও ইতিবাচক হবে।
তবে হাকাবির এই বক্তব্য তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থান। গাজা নিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, মানবাধিকার সংগঠন ও বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ রয়েছে; একই সঙ্গে ইসরায়েল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
হাকাবির বক্তব্যের বিপরীতে সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব বেড়েছে।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের মার্চ ২৩–২৯, ২০২৬-এর জরিপে ৬০ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক মত জানিয়েছেন। বিপরীতে ইতিবাচক মত ছিল ৩৭ শতাংশের। এক বছর আগে নেতিবাচক মত ছিল ৫৩ শতাংশ।
তবে ধর্মীয় গোষ্ঠীভেদে মতামতে বড় পার্থক্য রয়েছে। একই জরিপে শ্বেতাঙ্গ ইভানজেলিক্যাল প্রোটেস্ট্যান্টদের ৬৫ শতাংশ ইসরায়েল সম্পর্কে ইতিবাচক মত দিয়েছেন। ইহুদি আমেরিকানদের মধ্যেও ৬৪ শতাংশের মত ছিল ইতিবাচক।
অর্থাৎ, হাকাবি যে ধর্মীয় গোষ্ঠীর সঙ্গে নিজের অবস্থানের মিল দেখাচ্ছেন, সেই শ্বেতাঙ্গ ইভানজেলিক্যাল গোষ্ঠীর মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব এখনো সামগ্রিক মার্কিন জনমতের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
এপ–নোরক পরিচালিত জুলাইয়ের জরিপেও গাজা নিয়ে মার্কিন জনমতের বিভাজন স্পষ্ট হয়েছে। জরিপে ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড গণহত্যার পর্যায়ে পড়ে। প্রায় ২০ শতাংশ বলেছেন, তা গণহত্যা নয়। আর প্রায় অর্ধেক জানিয়েছেন, এ বিষয়ে মত দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য তাদের জানা নেই।
জরিপে আরও দেখা যায়, ৪০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ‘অতিরিক্ত’। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এ মত ৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সমর্থনকে ‘সঠিক মাত্রায়’ মনে করার প্রবণতা বেশি।
পিউর আরেকটি জরিপে ইসরায়েলি জনগণ ও ইসরায়েলি সরকারের প্রতিও মার্কিন নাগরিকদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
২০২৬ সালের মে মাসে পরিচালিত জরিপে ইসরায়েলি জনগণের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ছিল ৫২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ৫৬ শতাংশের চেয়ে কম। ২০১৯ সালে এই হার ছিল ৬৪ শতাংশ।
বয়সভেদেও বড় পার্থক্য রয়েছে। ১৮–২৯ বছর বয়সীদের মাত্র ৩২ শতাংশ ইসরায়েলি জনগণের প্রতি ইতিবাচক মত দিয়েছেন। বিপরীতে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে এই হার ৬৮ শতাংশ। একই জরিপে তরুণদের মধ্যে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ছিল ৫৮ শতাংশ।
নিউইয়র্কে চার দিনে ১১ দেশের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
দেশের বাজারে কমলো সোনা-রুপার দাম, ভরি কত?
সন্তানদের মরদেহ মিললেও বাবা নিখোঁজ
খসড়া সাইবার আইনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত হওয়ার আশঙ্কা