'হরমুজে ইরাকি তেলবাহী কিছু জাহাজ চলাচলে সহায়তা মিলছে'

ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমিদি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরাকের তেল বহনকারী কিছু জাহাজকে চলাচলে সহায়তা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কৌশলগত এই জলপথের পরিস্থিতি শুধু ইরাক নয়, পুরো বিশ্বের ওপর প্রভাব ফেলছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

শনিবার (২২ আগস্ট) বাগদাদে অষ্টম ‘বাগদাদ ডায়ালগ’ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন বলে জানিয়েছে ইরাকের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএনএ।

আমিদি বলেন, জাতীয় পর্যায়ে তেলবাহী জাহাজের বহর না থাকায় ইরাক তেল পরিবহনে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরাকি তেল বহনকারী কিছু জাহাজ চলাচলে সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির প্রভাব শুধু ইরাকের ওপর নয়, পুরো বিশ্বের ওপর রয়েছে।’

ইরাকের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ার বিষয়ে বাগদাদ দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। সংঘাতের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি ইরাক। তাঁর ধারণা, যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়।

অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে চায় ইরাক

দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আমিদি বলেন, ইরাকের সংবিধান অনুযায়ী সব অস্ত্র রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রয়োজন। নাজাফের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষও এ অবস্থানকে সমর্থন করে বলে জানান তিনি।

সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে অস্ত্র রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান জানান ইরাকের প্রেসিডেন্ট। এ ক্ষেত্রে তিনি একটি ‘ইরাকি জাতীয় সমাধানের’ ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি আরও বলেন, কোনো দেশের ওপর হামলা চালাতে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে আমিদি জানান, দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকারের সঙ্গে তার কথা হয়েছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক পর্যালোচনার বিষয়ে তেহরানের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের বিষয়ে তিনি বলেন, দায়েশ বা আইএসবিরোধী লড়াইয়ের জন্য বাগদাদের অনুরোধে ওই জোট ইরাকে এসেছিল। তবে এখন তাদের আর প্রয়োজন নেই। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর জোটটির ইরাক থেকে প্রত্যাহারের সময় নির্ধারিত রয়েছে।

আমিদি বলেন, ইরাক তার জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় আঞ্চলিক সিদ্ধান্ত নেয়। ‘সবার আগে ইরাক’ এই নীতির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ইরাকের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ছাড়া পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এর আগে বুধবার ইরান পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মাদ বাঘের কালিবাফের বাগদাদ সফরের সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে ইরাককে ‘বিশেষ বিবেচনা’ করার অনুরোধ জানায় দেশটি। কৌশলগত জলপথে বিধিনিষেধের কারণে ইরাকের তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে এ অনুরোধ জানানো হয়।

শুক্রবার বাগদাদে অষ্টম ‘বাগদাদ ডায়ালগ’ সম্মেলন শুরু হয়। এতে কর্মকর্তা, রাজনীতিক, কূটনীতিক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করছেন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।