নেপালের বন্যায় মৃত নারীর কানের দুল চুরি, দুই ব্যক্তি গ্রেপ্তার

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার মধ্যে মৃত এক নারীর মরদেহ থেকে কানের দুল খুলে নেওয়ার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হলে পুলিশ তাদের আটক করে।

ভাইরাল হওয়া প্রায় ৪১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, বন্যার পানিতে ভেসে থাকা এক নারীর মরদেহ দুই ব্যক্তি কাঠের তক্তা ও চুল ধরে টেনে পানির বাইরে আনার চেষ্টা করছেন। পরে তাদের একজন নারীর দুই কানের দুল খুলে পাশে রেখে দেন। ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন মানুষ পুরো ঘটনাটি ভিডিও করছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তারা ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে হেফাজতে নেয়। স্থানীয় প্রতিবেদনে তাদের চিতওয়ান এলাকায় গ্রেপ্তারের কথা বলা হয়েছে।

ভিডিওটি প্রকাশের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—ওই দুই ব্যক্তি কি সত্যিই মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করছিলেন, নাকি গয়না চুরির উদ্দেশ্যেই নারীর কাছে গিয়েছিলেন?

ভিডিওতে তাদের মরদেহটি পানির বাইরে টেনে আনার দৃশ্য দেখা গেলেও এরপর কানের দুল খুলে নেওয়ার ঘটনাটি স্পষ্টভাবে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু মন্তব্যে দাবি করা হয়েছে, নারীর চুল ধরে টানার উদ্দেশ্য ছিল দুল খুলে নেওয়া। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া উচিত নয়।

২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। হিমবাহ ও পাথরের বিশাল অংশ ধসে সৃষ্ট এই প্রবল জলপ্রবাহ নদী উপত্যকার বহু গ্রাম, সড়ক, সেতু ও অবকাঠামো ধ্বংস করে দেয়। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি বহু নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান চলছে।

এমন একটি ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যে মৃতদেহ থেকেও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে মৃত ব্যক্তির মর্যাদা ও পরিবারের প্রতি সম্মানের প্রশ্নটি সামনে এসেছে।

বন্যায় যখন মানুষ নিজের জীবন বাঁচাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন মৃতের গয়না লুটের অভিযোগ দুর্যোগ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ—দুই বিষয় নিয়েই উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে অতিরঞ্জিত দাবি বা যাচাইহীন তথ্য ছড়ানো থেকেও সতর্ক থাকা জরুরি। পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, এটি নিশ্চিত হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, এমনটি এখনই বলা যাবে না।