হিমালয় অঞ্চলে হঠাৎ নেমে আসা ভয়াবহ বন্যা ও কাদাস্রোতে নেপাল এবং তিব্বতে এক মর্মান্তিক মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৯০ জনেরও বেশি মানুষের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
নেপাল ও চীন কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, বিপর্যয় নেমে আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত উভয় দেশ মিলিয়ে ১,৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো কাদা ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধানে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার অভিযান জোরালোভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।
নেপালের নুয়াকোট ও ত্রিশুলিসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে অন্তত ৩৮৯ জনের প্রাণহানি নিশ্চিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে চীন নিয়ন্ত্রিত তিব্বত অংশে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের।
নিখোঁজদের মধ্যে ৫০০ জনেরও বেশি বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন। এর মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও চীনের বহু নাগরিক রয়েছেন।
তিব্বতের গায়িরং কাউন্টিতেও বিদেশি নাগরিকসহ সাড়ে পাঁচ শতাধিক মানুষের খোঁজ মিলছে না। নিখোঁজদের অনেকেই পবিত্র কৈলাশ পর্বত ও মানস সরোবরে গিয়েছিলেন।
দুর্যোগে পাহাড়ি রাস্তা ও সেতু বিধ্বস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজ চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিচ্ছিন্ন এলাকায় খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছে দিতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।
হিমবাহ ধসের কারণে প্রবল বেগে কাদাস্রোত নেমে এসে এই বিপর্যয় ঘটিয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে লেন্দে নদীতে প্রবল জলের স্রোতের চিত্র ধরা পড়েছে।
জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন বিশ্বসংস্থা এবং প্রতিবেশী দেশগুলো ইতিমধ্যেই নেপালে জরুরি অর্থ ও ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা স্টাফ, এএফপি এবং রয়টার্স
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে খলিলুর রহমানের ফোন
রাশিয়ায় বিস্ফোরণে বাংলাদেশি নিহত