নেপালে ভয়াবহ হিমবাহ ধসে সৃষ্টি হওয়া আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এই দুর্যোগে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ১,৫০০ জন মানুষ।
নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যাই বেশি, যার মধ্যে অন্তত ১৭৮ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। অনেকে হিমালয়ে ট্রেকিং করতে গিয়ে এবং তিব্বতের কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রায় গিয়ে এই দুর্যোগের মুখে পড়েন।
এদিকে তিব্বত-নেপাল সীমান্তে চীনের পক্ষ থেকে ‘লেভেল-৪’ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তিব্বতের ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলে পাহাড় ধসের ফলে একটি কৃত্রিম হ্রদ (ব্যারিয়ার লেক) তৈরি হয়েছে। প্রায় ২০ থেকে ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি জমে থাকা এই হ্রদটি যেকোনো সময় ভেঙে গিয়ে নিচের দিকে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় ও প্লাবন ঘটাতে পারে বলে সতর্ক করেছে চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়।
উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত চিত্রে দেখা গেছে, চীন-নেপাল সীমান্তের রসুওয়াগধি সীমান্ত পোস্টটি বন্যায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সেনাবাহিনী ও হেলিকপ্টার নিয়ে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গলতে থাকা হিমবাহই এই আকস্মিক বিপর্যয়ের কারণ বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
তবে হাজারো মানুষ নিখোঁজ থাকা সত্ত্বেও নেপাল সরকার আপাতত বিদেশি কোনো উদ্ধারকারী দল দেশে না আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের সরকারের দাবি, নেপালের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীই উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় সক্ষম। অন্যান্য দেশের কাছ থেকে উদ্ধারকারী দলের বদলে কেবল একক আর্থিক সহায়তা চেয়েছে নেপাল।
সূত্র: এনডিটিভি